আবদুল মুনইম আল-যিয়াদি
প্রকৃত জীবন হলো ভারসাম্যপূর্ণ জীবন। যে জীবন প্রকৃতির নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে এবং মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজনগুলোকে যথাযথভাবে পূরণ করে, সেটিই সুন্দর ও অর্থবহ জীবন। নিজেকে জানার অর্থ শুধু নিজের পরিচয় জানা নয়; বরং কোন নীতি, নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ করলে আনন্দময় ও সফল জীবন যাপন করা যায়, তা জানা। কারণ এমন একটি সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্যই মানুষকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।
সাধারণত আমরা কোনো ব্যক্তিকে তখনই সুস্থ ও সবল বলি, যখন তার শরীরে কোনো রোগ থাকে না, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকভাবে কাজ করে এবং শারীরিক কোনো ত্রুটি দেখা যায় না। কথাটি আংশিক সত্য হলেও পূর্ণ সত্য নয়। কারণ মানুষ শুধু দেহ নয়; সে দেহ ও মনের সমন্বয়ে গঠিত।
তাই কেবল শরীর সুস্থ থাকলেই একজন মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলা যায় না। তার মনও সুস্থ থাকা প্রয়োজন। ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’—কথাটি শুধু একটি প্রচলিত প্রবাদ নয়; এটি আধুনিক মনোবিজ্ঞানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য।
যেমন শরীরের স্বাস্থ্য নির্ভর করে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও ব্যবস্থার সঠিক কার্যক্রমের ওপর, তেমনি মানসিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে চিন্তা ও অনুভূতির মধ্যে ভারসাম্যের ওপর। চিন্তা যেন আবেগকে পুরোপুরি দমন না করে, আবার আবেগও যেন চিন্তা ও বিবেককে নিয়ন্ত্রণ না করে। সুতরাং ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ হলো সে, যার শরীর সুস্থ এবং যার চিন্তা ও অনুভূতির মধ্যেও সুন্দর সামঞ্জস্য রয়েছে।
তুমি যদি সুখী জীবন কামনা করো—আর আমার বিশ্বাস, তুমি অবশ্যই তা কামনা করো—তবে ভারসাম্যকে তোমার জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করো। তবে ভারসাম্য অর্জনের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলো না। প্রতিটি পরিস্থিতিতে শতভাগ সঠিক কাজ করার চিন্তায় যদি সব সময় তোমার মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকে এবং মন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, তবে সেটিও একধরনের ভারসাম্যহীনতা।
তোমার জন্য এতটুকু বিশ্বাস করাই যথেষ্ট যে, ভারসাম্যই শান্তি, স্বস্তি ও সুখী জীবনের পথ। এই নীতিকে নিজের জীবনদর্শনের অংশ করে নাও। তখন অতিরিক্ত উদ্বেগ ও অস্থিরতা ছাড়াই তুমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং সবচেয়ে সহজ ও উত্তম পথ বেছে নিতে পারবে।
কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য অর্জনের জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।
১. ঘুমের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখো
পর্যাপ্ত ঘুম শারীরিক স্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান শর্ত। মানসিক সুস্থতার জন্যও এটি অত্যন্ত জরুরি। ঘুমের মাধ্যমে শরীর ও স্নায়ু প্রয়োজনীয় বিশ্রাম লাভ করে। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করো এবং যথাসম্ভব নিয়মিতভাবে তা অনুসরণ করো। খুব কম ঘুম যেমন ক্ষতিকর, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমও উপকারী নয়।
২. অভ্যাসের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখো
নিজেকে এমন কঠোর ও অনড় অভ্যাসে বেঁধে ফেলো না, যা একসময় শৃঙ্খলের মতো তোমাকে বন্দী করে ফেলে। অভ্যাস জীবনে শৃঙ্খলা আনে, কিন্তু তা এত কঠোর হওয়া উচিত নয় যে, প্রয়োজনের সময় তুমি তা পরিবর্তন করতে পারবে না। ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের জন্য অভ্যাসগুলো নমনীয় হওয়া প্রয়োজন।
তোমার অভ্যাস যেন তোমাকে পরিচালনা না করে; বরং তুমি যেন প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যাসকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারো।
৩. খাবারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখো
খাবারের প্রতি মানুষের আকর্ষণের পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করে। একটি হলো খাবার থেকে আনন্দ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, আর অন্যটি হলো জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষার স্বাভাবিক প্রয়োজন। এই দুই আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করাই সবচেয়ে উপযুক্ত। শুধু স্বাদের আনন্দের জন্য অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, আবার প্রয়োজনের তুলনায় এত কম খাওয়াও ঠিক নয়, যা শরীরের ক্ষতি করে।
ভালো ও সুস্বাদু খাবার সহজলভ্য হলে সংযম রক্ষা করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু মনে রেখো, যখনই তুমি পরিমিতির সীমা অতিক্রম করবে, তখন তার মূল্য তোমার স্বাস্থ্যকেই দিতে হবে।
খাবারে সংযম শুধু শরীরের জন্যই উপকারী নয়; এটি মানসিক ও চারিত্রিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খাবারের প্রতি আকর্ষণের একটি অংশ প্রবৃত্তিগত কামনা। অন্য সব কামনার মতো একেও নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা প্রয়োজন।
৪. আবেগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখো
জীবনের সবকিছু যখন শান্ত ও সুন্দরভাবে চলে, তখন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন মনে হয় না। কিন্তু বিপদ, সমস্যা ও দুঃসময় সামনে এলে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
এর কারণ হলো, কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষ প্রায়ই সঠিকভাবে চিন্তা করা বন্ধ করে দেয়। সে নিজের আবেগের লাগাম ছেড়ে দেয় এবং আবেগ তাকে যেদিকে চায় সেদিকে পরিচালিত করে। কিন্তু তুমি যদি আবেগকে বিবেক ও যুক্তির আলোকে বিচার করো, তাহলে কঠিন সময়েও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
বিপদের সময় সাহস, দুর্যোগের সময় বিবেচনাবোধ এবং অপছন্দনীয় পরিস্থিতির মোকাবিলায় সঠিক উপলব্ধি—এসবই সুখী জীবনের দরজার প্রহরীর মতো। তাই এগুলো কখনো পরিত্যাগ কোরো না।
আবেগ অতিরিক্ত উত্তেজিত হলে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। কারণ তখন আবেগ বিবেককে আড়াল করে এবং চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
জীবনে অনেক বড় ঝগড়া, দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং অন্তরে জমে থাকা বিদ্বেষের পেছনে খুবই সামান্য কারণ থাকে। এগুলো বড় হয়ে ওঠে শুধু এ কারণে যে, মানুষ তখন আবেগকে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দিয়েছিল। ভয়ও আবেগেরই একটি রূপ। অতিরিক্ত ভয় এমন একটি ধ্বংসাত্মক হাতুড়ির মতো, যা মানসিক ভারসাম্যকে চূর্ণ করে দিতে পারে।
ভয় যদি যুক্তিসংগত হয়, তবে তা মানুষকে সতর্ক, ধীরস্থির ও বিবেচক করে তোলে। এটিই ভয়ের স্বাভাবিক ও উপকারী কাজ। কিন্তু ভয় সীমা অতিক্রম করলে তা অযৌক্তিক উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং মানুষের কর্মশক্তি ও প্রাণশক্তি নিঃশেষ করে দেয়।
একজন মনোবিজ্ঞানীর মতে, আমরা যেসব বিষয় নিয়ে ভয় ও দুশ্চিন্তা করি, সেগুলোর শতকরা নিরানব্বই ভাগই শেষ পর্যন্ত ঘটে না।
৫. আচরণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখো
ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের জন্য নিজের আবেগ ও তাড়নাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তুমি হয়তো কোনো কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়লে এবং খুব তাড়াহুড়া করে তা সম্পন্ন করলে। কিন্তু পরে দেখলে, তোমার সামনে অনেক অবসর পড়ে আছে এবং অহেতুক তাড়াহুড়া করার জন্য তুমি অনুতপ্ত হচ্ছ।
একইভাবে, কোনো ঘটনায় তুমি খুব রেগে গেলে বা উত্তেজিত হয়ে পড়লে। পরে শান্ত হয়ে বুঝতে পারলে, বিষয়টি এত রাগ বা উত্তেজনার যোগ্যই ছিল না। তখন তোমার মধ্যে দুঃখ ও অনুশোচনা তৈরি হবে। তাই তাড়াহুড়া, রাগ বা উত্তেজনার বশে কোনো কাজ করার আগে তার সম্ভাব্য পরিণতি ভেবে দেখো।
৬. মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখো
তোমার জীবনের সুখ অনেকাংশে নির্ভর করে মানুষের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কেমন, তার ওপর। এসব সম্পর্কের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সঙ্গে সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক মানুষের ব্যক্তিত্বকে এমনভাবে গড়ে তোলে, যা অন্য কোনো কিছু সহজে করতে পারে না।
পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসো, তাদের অধিকার আদায় করো এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটাও। তবে ভালোবাসার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, অযৌক্তিক প্রত্যাশা অথবা নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেওয়াও ঠিক নয়।
একইভাবে, নারী ও পুরুষের মধ্যকার সুস্থ, সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক একটি পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আর সম্ভবত ভারসাম্যপূর্ণ ভালোবাসা জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর একটি।
তবে আমাদের কেউই সব সময় এবং সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে পারবে—এমন আশা করা উচিত নয়। তা হলে তো মানুষ মানুষের স্বাভাবিক সীমার বাইরে চলে যেত!
পরিণত মানুষ সে নয়, যে কখনো ভুল করে না। বরং পরিণত মানুষ হলো সে, যে ভুল করলে নিজের ভুল স্বীকার করে এবং তা সংশোধনের চেষ্টা করে। মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতাগুলোর একটি হলো প্রতিটি বিষয়কে তার প্রকৃত গুরুত্ব ও মূল্য অনুযায়ী বিচার করার ক্ষমতা।
তুমি যদি এই যোগ্যতা অর্জন ও বিকশিত করতে পারো, তবে তা তোমার ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিকের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় সহায়ক হবে। আর এর প্রতিদান হিসেবে তুমি লাভ করবে শান্তি, সুখ ও আনন্দময় জীবন।
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করো
যুক্তরাজ্যে তাবলিগের ইজতেমায় হামলার আশঙ্কায় ডজনখানেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা; আহত ৬
গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত ইসরায়েলের
বিভাজনের নীতি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরোধের পথেই অবিচল গাজাবাসী
যুক্তরাজ্যে ইমামের বাড়িতে পেট্রোলবোমা হামলা, মসজিদের বাইরে উদ্ধার সন্দেহজনক বস্তু
পশ্চিমা দেশ ছেড়ে হিজরাহ: সন্তান প্রতিপালনে কেন দুবাই-সৌদির চেয়ে মিশর এগিয়ে?
মাওলানা পীর মুজাফফর আহমদ: রোহিঙ্গা মুসলিমদের এক আধ্যাত্মিক অভিভাবক
বিশিষ্ট আলেম ও গহরপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কবির আহমদের ইন্তেকাল
ফুটবল বিশ্বকাপে মাতোয়ারা বিশ্ব, গাজায় চলছে টিকে থাকার চরম লড়াই
গাজায় ফের বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
পরিবর্তনশীল বিশ্বে মুসলিম অভিবাসনের ৫টি আপাত-বিপরীত বাস্তবতা
গাজা ইস্যুতে বিশ্বের দ্বিমুখী নীতি উন্মোচন, বেন গভিরের বক্তব্যেই ইসরায়েলের বয়ান ধূলিসাৎ
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট হজ: অ্যালগরিদমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জনমসাগম
আলেম ও বাবাদের শারীরিক সুস্থতায় হালাল অ্যাওয়ারনেস নেটওয়ার্কের মর্নিং ওয়াক
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করো
যুক্তরাজ্যে তাবলিগের ইজতেমায় হামলার আশঙ্কায় ডজনখানেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা; আহত ৬
গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত ইসরায়েলের
বিভাজনের নীতি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরোধের পথেই অবিচল গাজাবাসী
যুক্তরাজ্যে ইমামের বাড়িতে পেট্রোলবোমা হামলা, মসজিদের বাইরে উদ্ধার সন্দেহজনক বস্তু
পশ্চিমা দেশ ছেড়ে হিজরাহ: সন্তান প্রতিপালনে কেন দুবাই-সৌদির চেয়ে মিশর এগিয়ে?
মাওলানা পীর মুজাফফর আহমদ: রোহিঙ্গা মুসলিমদের এক আধ্যাত্মিক অভিভাবক
বিশিষ্ট আলেম ও গহরপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কবির আহমদের ইন্তেকাল
ফুটবল বিশ্বকাপে মাতোয়ারা বিশ্ব, গাজায় চলছে টিকে থাকার চরম লড়াই
গাজায় ফের বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
পরিবর্তনশীল বিশ্বে মুসলিম অভিবাসনের ৫টি আপাত-বিপরীত বাস্তবতা
গাজা ইস্যুতে বিশ্বের দ্বিমুখী নীতি উন্মোচন, বেন গভিরের বক্তব্যেই ইসরায়েলের বয়ান ধূলিসাৎ
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট হজ: অ্যালগরিদমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জনমসাগম
আলেম ও বাবাদের শারীরিক সুস্থতায় হালাল অ্যাওয়ারনেস নেটওয়ার্কের মর্নিং ওয়াক