ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওত আহরোনোত জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল ইয়ানিভ আসোর গাজা উপত্যকায় নতুন সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি আলোচনায় লেবানন সীমান্তের উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে গাজা ইস্যু কিছুটা পেছনে চলে গেছে। তবে এর মধ্যেও আসোর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নতুন করে গাজায় অভিযান শুরু করার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সংবাদপত্রটিকে জানিয়েছে, ইয়ানিভ আসোর ইতোমধ্যে নতুন সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয়ভাবে চাপ দিচ্ছেন। তার দাবি, হামাসের সামরিক অবকাঠামো ছয় থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যেই ধ্বংস করা সম্ভব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসোর ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ব্যয়, ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ইসরায়েলি হতাহতের বিষয়ও তুলে ধরেছেন।
এমন সময়ে এই সুপারিশ এসেছে, যখন হামাস এখনো গাজার প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এসব এলাকায় সংগঠনটি বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার পাশাপাশি নিজেদের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো দ্বিধায়
দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের সুপারিশ সত্ত্বেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনই এমন অভিযান শুরু করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের মতে, ইসরায়েল একযোগে সব ফ্রন্টে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালাতে পারে না। তাই সম্পদ ও কৌশলগত মনোযোগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমানে লেবানন ও ইরান ফ্রন্টই ইসরায়েলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মকর্তা সংবাদপত্রটিকে বলেন, গাজা নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সম্পদ ও মনোযোগের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা বজায় রাখতে চাই। আপাতদৃষ্টিতে সবকিছু হামাস নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে কি না, তার উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু এটা পরিষ্কার যে তারা তা করবে না, এবং এটাও পরিষ্কার যে শেষ পর্যন্ত এই কাজ আমাদেরই করতে হবে।”
সামরিক অভিযান নাকি অর্থনৈতিক চাপ?
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো ইসরায়েল কি এখনই বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করবে, নাকি প্রথমে হামাসকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, হামাসের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া এবং লেবানন ফ্রন্ট স্থিতিশীল হওয়ার পর আবার গাজায় পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রয়েছে।
একই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি বলেছেন, তার নির্দেশনা অনুযায়ী গাজার ভেতরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়ানো হবে এবং তথাকথিত “ইয়েলো লাইন” আরও পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
জর্ডান উপত্যকায় আয়োজিত এক সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, “বর্তমানে আমরা গাজার ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছি। ধাপে ধাপে আমরা ৭০ শতাংশে পৌঁছাবো, তারপর সেখান থেকে আরও এগোবো। আমরা তাদের চারদিক থেকে চাপ দিচ্ছি এবং পরে বাকি বিষয়গুলো নিয়েও ব্যবস্থা নেব।”
বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনাবাহিনী
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সেনাপ্রধানের নির্দেশনা এবং সরকারের নীতির আলোকে দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড বিভিন্ন ধরনের সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে।
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিকল্পনা বিকল্প কৌশল হিসেবে জেনারেল স্টাফ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বিকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব ও ফলাফলও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ ও হামাসের নিয়ন্ত্রণ
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামাস এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার করছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন, সেনাসদস্যদের সাক্ষ্য এবং সীমান্ত পারাপারে কর্মরত সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তার চালানের মধ্যে “দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য” সামগ্রী পাচারের উল্লেখযোগ্য চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং মার্কিন পরিকল্পনার প্রথম ধাপের আওতায় প্রতিদিন গাজায় প্রবেশ করা প্রায় ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাকও রয়েছে।
ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও আলোচনা করেছে, যাতে ত্রাণ হামাসের হাতে না পৌঁছায় অথবা সংগঠনটির তা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা সীমিত করা যায়।
বিবেচনাধীন প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে তথাকথিত “ইয়েলো লাইন”-এর কাছাকাছি এলাকায় পুনরায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন। প্রায় এক বছর আগে এই মডেল পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল, তবে তা সফল হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিকল্প ব্যবস্থাও বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কৃতজ্ঞতায়: SunnahFile Web
তারিখ: ৩ জুন ২০২৬
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ৯টি দোয়া
ইসলামে তাওবা কবুলের ৫টি মৌলিক শর্ত
হিজাব পরলেই জরিমানা: ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থীদের নতুন পরিকল্পনার ছক
২৫ বছরের প্রতারণা: 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ' দিয়ে যেভাবে মুসলিমদের কলঙ্কিত করেছে পশ্চিমারা
সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে কুরআন বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
প্রাণীদের প্রতি আচরণে মহানবী ﷺ-এর আদর্শ
পশ্চিমা বিশ্বে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলামবিদ্বেষকে ব্যবহার করছে ইসরায়েল
লন্ডনে তালিমুল কুরআন ইউকে মসজিদের ১৩তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
গাজায় মৃতদের দাফনের জন্যও ফুরিয়ে আসছে জায়গা
কেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের সময় কী কী নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল?
যেসব বৈশিষ্ট্য ইসলামকে অনন্য করে তুলেছে
রাসুল ﷺ ও তাঁর পরিবার মাসের পর মাস 'যে দুই কালো খাবারে' জীবনধারণ করেছিলেন
মেলবোর্নে মসজিদের কাছে মুসলিম বাবার ওপর হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ৯টি দোয়া
ইসলামে তাওবা কবুলের ৫টি মৌলিক শর্ত
হিজাব পরলেই জরিমানা: ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থীদের নতুন পরিকল্পনার ছক
২৫ বছরের প্রতারণা: 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ' দিয়ে যেভাবে মুসলিমদের কলঙ্কিত করেছে পশ্চিমারা
সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে কুরআন বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
প্রাণীদের প্রতি আচরণে মহানবী ﷺ-এর আদর্শ
পশ্চিমা বিশ্বে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলামবিদ্বেষকে ব্যবহার করছে ইসরায়েল
লন্ডনে তালিমুল কুরআন ইউকে মসজিদের ১৩তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
গাজায় মৃতদের দাফনের জন্যও ফুরিয়ে আসছে জায়গা
কেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের সময় কী কী নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল?
যেসব বৈশিষ্ট্য ইসলামকে অনন্য করে তুলেছে
রাসুল ﷺ ও তাঁর পরিবার মাসের পর মাস 'যে দুই কালো খাবারে' জীবনধারণ করেছিলেন
মেলবোর্নে মসজিদের কাছে মুসলিম বাবার ওপর হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ