ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপভোগ করতে যখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশন ও বিভিন্ন পর্দার সামনে ভিড় জমাচ্ছেন, তখন আয়োজক শহরগুলোর স্টেডিয়ামগুলো মুখরিত হচ্ছে উল্লাসে। জনচত্বরে চলছে উদযাপন, আর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আসরকে ঘিরে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। কিন্তু গাজায় চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
একদিকে আতশবাজির আলোয় আলোকিত হচ্ছে বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোর আকাশ, ফুটবলপ্রেমীরা উদযাপন করছেন আনন্দ ও জাতীয় গৌরবের মুহূর্ত। অন্যদিকে গাজা উপত্যকার লাখো ফিলিস্তিনি এখনো ধ্বংসস্তূপ, দারিদ্র্য এবং জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা হারানোর বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এই বৈপরীত্য স্পষ্ট করে তুলছে এমন এক মানবিক বাস্তবতা, যা উপেক্ষা করা কঠিন। একদিকে উৎসবে মগ্ন বিশ্ব, অন্যদিকে কেবল বেঁচে থাকার সংগ্রামে নিমগ্ন আরেকটি জনগোষ্ঠী।
বিশ্বকাপের উৎসবে গাজার অনুপস্থিতি
ফিফা বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়। এটি এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজন, যা সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন অতিক্রম করে কোটি কোটি মানুষকে আনন্দ, আবেগ, পরিচয়বোধ এবং আশার বন্ধনে একত্রিত করে। কিন্তু গাজার অনেক বাসিন্দার কাছে এই অনুভূতিগুলো এখন নাগালের বাইরে।
এর কারণ ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার অভাব নয়। বরং তাদের দৈনন্দিন অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ বদলে গেছে। খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংগ্রাম এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা সবচেয়ে বেশি বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে গাজার শিশুদের দিকে তাকালে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুরা তাদের প্রিয় দলের জার্সি পরে আনন্দ করছে, ভবিষ্যতের ফুটবল তারকা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অথচ গাজার হাজার হাজার শিশু হারিয়েছে তাদের খেলার মাঠ, বিদ্যালয় এবং নিরাপদ আশ্রয়। তাদের অনেকের কাছে ফুটবল এখন আর প্রতিদিনের খেলা বা বিনোদনের মাধ্যম নয়। বরং এটি এমন এক জীবনের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যখন তাদের জীবন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। যে খেলাটি একসময় অবরোধ ও কষ্টের বাস্তবতা থেকে সাময়িক মুক্তির সুযোগ দিত, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনার ফলে সেটিও আজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে ফুটবল
গাজার ফুটবলকে গাজার সামগ্রিক বাস্তবতা থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। যুদ্ধের আগে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা সংকট থাকলেও খেলাধুলা মানুষের জীবনে স্বাভাবিকতার অনুভূতি এনে দিত। ফুটবল তরুণ ও শিশুদের জন্য ছিল দৈনন্দিন চাপ থেকে মুক্তির একটি মাধ্যম এবং এমন একটি পরিসর, যেখানে স্বাভাবিক জীবনধারা কিছুটা হলেও বজায় থাকত।
স্থানীয় মাঠগুলো প্রায় সবসময় খেলোয়াড় ও দর্শকে মুখর থাকত। স্থানীয় লিগ ও ম্যাচগুলো ঘিরে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু সেই দৃশ্যগুলো এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। অবকাঠামো ধ্বংস এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের কারণে বহু মানুষের পরিচিত গাজা আজ আমূল বদলে গেছে।
ধারাবাহিক সামরিক সংঘাত এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাব-নিকাশ অঞ্চলটিকে আরও জটিল সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এর প্রভাব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়েছে। মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট যত গভীর হয়েছে, উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের সুযোগ ততই কমেছে। তার জায়গা নিয়েছে বেঁচে থাকা এবং মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জরুরি সংগ্রাম।
হারিয়ে যাওয়া জীবনের বেদনাদায়ক স্মৃতি
পরিস্থিতিকে আরও কষ্টদায়ক করে তুলেছে একটি বিষয়। বিশ্বকাপের মতো একটি আয়োজন, যার উদ্দেশ্য মানুষকে আনন্দে একত্র করা, সেটিই এখন গাজার অনেক মানুষের কাছে হারিয়ে যাওয়া জীবনের বেদনাদায়ক স্মারক হয়ে উঠেছে। আধুনিক স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের উল্লাসের দৃশ্য তাদের মনে করিয়ে দেয় ধ্বংসপ্রাপ্ত কিংবা পরিত্যক্ত ফুটবল মাঠগুলোর কথা। বিশ্বকাপে প্রতিটি গোল উদযাপন কিংবা কোনো দলের বিজয়ের মুহূর্ত তাদের কাছে প্রতিফলিত হয় এক ভিন্ন বাস্তবতায়, যেখানে প্রতিদিনের সঙ্গী অনিশ্চয়তা, ক্ষতি ও দুর্ভোগ। এখানেই মানবিক বৈপরীত্যটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্বের বড় একটি অংশ যখন সম্মিলিত আনন্দে মেতে উঠেছে, তখন আরেকটি জনগোষ্ঠী এখনো এমন এক সংকটের ভার বহন করছে, যার কোনো সমাপ্তি এখনো দেখা যাচ্ছে না।
যেখানে উদযাপনের আগে প্রয়োজন বেঁচে থাকার অধিকার
এই বৈপরীত্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হলো পৃথিবীর সব মানুষের কাছে বড় বৈশ্বিক আয়োজনের অর্থ এক নয়। খেলাধুলা কোটি মানুষের জন্য আনন্দ ও আশার উৎস হতে পারে। কিন্তু কিছু জনগোষ্ঠীর জন্য উদযাপনের আগে প্রয়োজন জীবনের মৌলিক শর্তগুলো নিশ্চিত করা। গাজা আজ সেই বাস্তবতার অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ।
গাজার মানুষ বিশ্বকাপ থেকে দূরে আছেন ফুটবলের প্রতি অনাগ্রহের কারণে নয়। বরং তাদের চারপাশের কঠিন বাস্তবতা এমন এক বিশাল ব্যবধান তৈরি করেছে, যেখানে একদিকে বিশ্ব ক্রীড়া সাফল্য উদযাপন করছে, আর অন্যদিকে তারা নিজেদের ক্ষত সারিয়ে স্বাভাবিক জীবন ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ যখন বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, তখন গাজা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে পৃথিবীর বহু মানুষের জন্য এখনো উৎসবের চেয়ে বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
তারিখ: ১২ জুন ২০২৬
কৃতজ্ঞতায়: Sunnah Files Web
ফুটবল বিশ্বকাপে মাতোয়ারা বিশ্ব, গাজায় চলছে টিকে থাকার চরম লড়াই
গাজায় ফের বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
পরিবর্তনশীল বিশ্বে মুসলিম অভিবাসনের ৫টি আপাত-বিপরীত বাস্তবতা
গাজা ইস্যুতে বিশ্বের দ্বিমুখী নীতি উন্মোচন, বেন গভিরের বক্তব্যেই ইসরায়েলের বয়ান ধূলিসাৎ
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট হজ: অ্যালগরিদমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জনমসাগম
আলেম ও বাবাদের শারীরিক সুস্থতায় হালাল অ্যাওয়ারনেস নেটওয়ার্কের মর্নিং ওয়াক
সিলেট দাওয়াহ সেন্টারের উদ্যোগে আলী বাহার চা বাগানে দা'ওয়াতি কার্যক্রম ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান
"সিগারেট নয়, রুটি চাই": গাজায় বিতর্কিত ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ফিলিস্তিনিরা
বাংলাদেশের হৃদয়ে ফিলিস্তিন: আলেম, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ‘উলামায়ে উম্মাহ’-র প্রতিনিধি দলের ব্যাপক সংযোগ
দ্য ইকোনমিস্ট: গাজায় এখন ইঁদুর ছাড়া সবকিছুই স্থবির
হালাল এওয়ারনেস নেটওয়ার্কের উদ্যেগে রোড ট্রিপ ও নিউক্যাসলে দিনব্যাপী হালাল স্ট্রিট ক্যাম্পেইন সমাপ্ত
গাজায় গণহত্যার নতুন কৌশল: নিভৃতে চলছে নিধন
আল-আকসা দখল হলে আমাদের করণীয় কী ?
‘বাংলাদেশে দ্বীনের খেদমতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের করণীয়: যুবসমাজ, পরিবার ও ইসলামী পরিচয় রক্ষায় ভূমিকা’ শীর্ষক
গাজায় চরম পানি সংকট: আল-মাওয়াসিতে তৃষ্ণায় মৃত্যুর মুখে হাজারো মানুষ
ফুটবল বিশ্বকাপে মাতোয়ারা বিশ্ব, গাজায় চলছে টিকে থাকার চরম লড়াই
গাজায় ফের বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
পরিবর্তনশীল বিশ্বে মুসলিম অভিবাসনের ৫টি আপাত-বিপরীত বাস্তবতা
গাজা ইস্যুতে বিশ্বের দ্বিমুখী নীতি উন্মোচন, বেন গভিরের বক্তব্যেই ইসরায়েলের বয়ান ধূলিসাৎ
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট হজ: অ্যালগরিদমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জনমসাগম
আলেম ও বাবাদের শারীরিক সুস্থতায় হালাল অ্যাওয়ারনেস নেটওয়ার্কের মর্নিং ওয়াক
সিলেট দাওয়াহ সেন্টারের উদ্যোগে আলী বাহার চা বাগানে দা'ওয়াতি কার্যক্রম ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান
"সিগারেট নয়, রুটি চাই": গাজায় বিতর্কিত ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ফিলিস্তিনিরা
বাংলাদেশের হৃদয়ে ফিলিস্তিন: আলেম, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ‘উলামায়ে উম্মাহ’-র প্রতিনিধি দলের ব্যাপক সংযোগ
দ্য ইকোনমিস্ট: গাজায় এখন ইঁদুর ছাড়া সবকিছুই স্থবির
হালাল এওয়ারনেস নেটওয়ার্কের উদ্যেগে রোড ট্রিপ ও নিউক্যাসলে দিনব্যাপী হালাল স্ট্রিট ক্যাম্পেইন সমাপ্ত
গাজায় গণহত্যার নতুন কৌশল: নিভৃতে চলছে নিধন
আল-আকসা দখল হলে আমাদের করণীয় কী ?
‘বাংলাদেশে দ্বীনের খেদমতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের করণীয়: যুবসমাজ, পরিবার ও ইসলামী পরিচয় রক্ষায় ভূমিকা’ শীর্ষক
গাজায় চরম পানি সংকট: আল-মাওয়াসিতে তৃষ্ণায় মৃত্যুর মুখে হাজারো মানুষ