একজন মুসলিম বছরের পর বছর নামাজ আদায় করতে পারেন, রমজানের রোজা রাখতে পারেন, জাকাত দিতে পারেন এবং ধর্মীয় দায়িত্বগুলো পালন করতে পারেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন তিনি এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, যখন অন্য মানুষের অধিকারসংক্রান্ত দাবিগুলো তাঁর অর্জিত সব নেক আমলকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে।"
নবী মুহাম্মদ ﷺ সহিহ মুসলিমে সংকলিত একটি বিশুদ্ধ হাদিসে এমন একজন ব্যক্তির কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ওই ব্যক্তিকে বলেছেন, ‘আল-মুফলিস’, অর্থাৎ নিঃস্ব বা দেউলিয়া ব্যক্তি।
এই হাদিসের বিশেষ তাৎপর্য হলো, ওই ব্যক্তির সমস্যা ইবাদতের অভাব নয়। বরং তিনি ইবাদত নিয়ে উপস্থিত হবেন। কিন্তু দুনিয়ায় যেসব মানুষের প্রতি তিনি অন্যায় করেছেন, তাঁদের অধিকার তখনো অনিষ্পন্ন থাকবে। আর সেই অধিকারগুলোই তাঁর পতনের কারণ হবে।
এই বর্ণনা ইসলামে জবাবদিহির একটি মৌলিক নীতি প্রতিষ্ঠা করে: ইবাদত করলেই অন্যায়ের পরিণতি থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।
নিঃস্ব মুসলিম কে?
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী মুহাম্মদ ﷺ সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন: “তোমরা কি জানো, নিঃস্ব ব্যক্তি কে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, নিঃস্ব ব্যক্তি হলেন সেই ব্যক্তি, যার কাছে কোনো অর্থসম্পদ নেই।
এরপর নবী মুহাম্মদ ﷺ ব্যাখ্যা করলেন, তাঁর উম্মতের প্রকৃত নিঃস্ব ব্যক্তি কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু একই সঙ্গে সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে, কারও রক্তপাত ঘটিয়েছে এবং কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছে।
তখন তার নেক আমলগুলো যাদের প্রতি সে অন্যায় করেছে, তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে। সবার দাবি পূরণের আগেই যদি তার নেক আমল শেষ হয়ে যায়, তাহলে যাদের প্রতি সে অন্যায় করেছে, তাদের পাপ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৮১, পুণ্য ও সদাচার অধ্যায়, জুলুম নিষিদ্ধ হওয়ার অনুচ্ছেদ।
আরবি ‘মুফলিস’ শব্দটি সাধারণত এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যে নিজের সম্পদ হারিয়েছে। কিন্তু এখানে নবী মুহাম্মদ ﷺ পরকালের দৃষ্টিকোণ থেকে দেউলিয়াত্বের নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আখিরাতে অন্য মানুষের অধিকার পরিশোধ না করার কারণে একজন মানুষের সঞ্চিত নেক আমলও হারিয়ে যেতে পারে।
হাদিসে উল্লেখিত অন্যায়ের পাঁচটি ধরন
এই হাদিসে এমন পাঁচটি অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর পরিণতিতে একজন মানুষ এ ধরনের অবস্থায় পড়তে পারে। সেগুলো হলো, অন্যকে গালি দেওয়া, মানহানিকর অপবাদ দেওয়া, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা, রক্তপাত ঘটানো এবং কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা।m এসব অপরাধের সবগুলো আর্থিক অপরাধ নয়।
প্রথম দুটি অপরাধ কথাবার্তা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পর্কিত। কেউ অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ না করলেও এবং কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত না করলেও, কাউকে অপমান করা কিংবা তার বিরুদ্ধে গুরুতর মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার কারণে তাকে জবাবদিহি করতে হতে পারে।
তৃতীয় অপরাধটি সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে অন্যায়ভাবে অর্জিত বা আটকে রাখা সম্পদও অন্তর্ভুক্ত। শেষ দুটি অপরাধ শারীরিক ক্ষতি ও সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ প্রায়ই জুলুম বলতে শাসকদের অত্যাচার, অপরাধীদের কর্মকাণ্ড কিংবা বড় ধরনের নৃশংসতাকে বুঝে থাকে। অথচ এই হাদিসে অন্যায় কথাবার্তা ও সম্মানহানিকেও সম্পদসংক্রান্ত অধিকার লঙ্ঘন এবং শারীরিক ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব, এই সতর্কবাণী এমন সব আচরণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যা মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্ক, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক জীবনে ঘটতে পারে।
কীভাবে নেক আমল ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে
এই হাদিসের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, মানুষের প্রতি করা অন্যায়ের অনিষ্পন্ন দাবিগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। নবী মুহাম্মদ ﷺ ব্যাখ্যা করেছেন, অন্যায়কারী ব্যক্তির নেক আমলগুলো যাদের সে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের দিয়ে দেওয়া হবে।
যদি একাধিক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে ন্যায্য দাবি রাখেন, তাহলে তাদের মধ্যে তার নেক আমল বণ্টন করা হবে। সব দাবি নিষ্পত্তির আগেই যদি তার নেক আমল শেষ হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাপ অন্যায়কারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, জালিম ব্যক্তি তার সঞ্চিত নেকির প্রতিদান হারাতে পারে, আর মজলুম ব্যক্তি তার প্রাপ্য প্রতিদান পেতে পারেন।
ইমাম নববী সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন, দুনিয়ার দেউলিয়াত্ব সাময়িক হতে পারে। কোনো ব্যক্তি অর্থ হারালে পরে আবার আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে পারেন। কিন্তু হাদিসে বর্ণিত দেউলিয়াত্ব অনেক বেশি গুরুতর। কারণ এটি চূড়ান্ত হিসাবের দিনে নিজের নেক আমল হারিয়ে ফেলার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইমাম নববী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মতাত্ত্বিক প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন: একজন মানুষ কীভাবে অন্য কারও করা পাপের বোঝা বহন করবেন?
তাঁর ব্যাখ্যা হলো, অন্যায়কারীকে ইচ্ছামতো অন্যের অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না। বরং তার নিজের জুলুম এবং যাদের ক্ষতি করেছে, তাদের অধিকার পরিশোধ না করার কারণে এই পাপের বোঝা তার ওপর স্থানান্তরিত হবে।
সূত্র: ইমাম নববী, সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, জুলুম নিষিদ্ধ হওয়ার অনুচ্ছেদ।
ঋণ পরিশোধের জন্য তখন আর কোনো অর্থ থাকবে না
আরেকটি বিশুদ্ধ হাদিসে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, মৃত্যুর আগেই কেন অন্যায়ের মীমাংসা করা জরুরি। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, নবী মুহাম্মদﷺ নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ যদি অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় করে থাকে, তা তার সম্মানহানির মাধ্যমে হোক কিংবা অন্য কোনোভাবে, তাহলে কিয়ামতের দিন আসার আগেই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত।
এর কারণও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: সেদিন ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
বরং অন্যায়কারীর অন্যায়ের পরিমাণ অনুযায়ী তার নেক আমল থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। তার কোনো নেক আমল অবশিষ্ট না থাকলে, যার প্রতি সে জুলুম করেছে, তার পাপ অন্যায়কারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৪৯।
এই হাদিস মানুষের দায়িত্বকে দুটি ভাগে পৃথক করে দেখায়: আল্লাহর প্রতি মানুষের দায়িত্ব এবং অন্য মানুষের প্রতি মানুষের অধিকার। একজন মানুষকে উভয় দায়িত্বই পালন করতে হবে।
অতিরিক্ত নফল ইবাদত করা কখনো চুরি করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া, প্রকৃত ঋণ পরিশোধ করা কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি করা ক্ষতির প্রতিকার করার বিকল্প হতে পারে না।
শহীদ হওয়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণ মুছে দেয় না
আরেকটি বিশুদ্ধ হাদিসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন: “শহীদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, ঋণ ছাড়া।”
সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮৮৬।
এটি আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবাণী। ইসলামে শহীদের মর্যাদা অসাধারণ। তা সত্ত্বেও নবী মুহাম্মদ ﷺ এই বর্ণনায় সাধারণ ক্ষমার আওতা থেকে ঋণকে স্পষ্টভাবে পৃথক করেছেন। এর তাৎপর্য পরিষ্কার: অন্য মানুষের অধিকার কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়, যা কেউ অসাধারণ কোনো নেক আমল করলেই আপনা-আপনি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এ কারণেই একজন মুসলিমের উচিত নয়, নিজের নেককার হওয়ার ওপর ভরসা করে ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধে দেরি করা এবং মনে করা যে তাঁর ব্যক্তিগত ধার্মিকতা সব অনিষ্পন্ন দায়দেনা মিটিয়ে দেবে।
পশুদের মধ্যেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে
কিয়ামতের দিন জবাবদিহির ব্যাপকতা বোঝাতে সহিহ মুসলিমে নিঃস্ব মুসলিমের হাদিসটির পরপরই আরেকটি বর্ণনা এসেছে। নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন, সেদিন প্রত্যেক অধিকার তার প্রকৃত অধিকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি শিংবিহীন ভেড়াকেও শিংওয়ালা ভেড়ার কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া হবে।
সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৮২।
ইমাম নববী ব্যাখ্যা করেছেন, এই বর্ণনা পশুদের একত্র করা এবং তাদের মধ্যে সংঘটিত অন্যায়ের নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করে। এখানে উদ্দেশ্য এই নয় যে, পশুরা মানুষের মতো একইভাবে নৈতিক জবাবদিহির অধীন। বরং এই বর্ণনা আল্লাহর ন্যায়বিচারের পূর্ণতা তুলে ধরে।
পশুদের মধ্যকার অন্যায়ও যদি উপেক্ষা করা না হয়, তাহলে মানুষের প্রতি ইচ্ছাকৃত জুলুমকে কোনোভাবেই তুচ্ছ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
পুলসিরাত পার হওয়ার পরও অন্যায়ের হিসাব মেটাতে হবে
আরেকটি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত বর্ণনা আখিরাতে মানুষের পারস্পরিক অন্যায়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা তুলে ধরে। সহিহ বুখারিতে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন, যেসব মুমিন জাহান্নামের ওপর নির্মিত সেতু নিরাপদে পার হবেন, তাঁদের জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি স্থানে থামানো হবে।
সেখানে দুনিয়ায় তাঁদের পরস্পরের মধ্যে সংঘটিত অন্যায়গুলোর নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর যখন তাঁদের পরিশুদ্ধ করা হবে, কেবল তখনই তাঁদের জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৪০।
এই স্থানটি সাধারণত ‘আল-কানতারাহ’ নামে পরিচিত। এই বর্ণনায় এমন মুমিনদের কথা বলা হয়েছে, যারা ইতিমধ্যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ কারণেই এখানকার শিক্ষা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। জান্নাতে প্রবেশের আগেও তাঁদের মধ্যে অবশিষ্ট পারস্পরিক অভিযোগ ও অধিকারসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে হবে। এটি আরও প্রমাণ করে যে, ইসলামী বিশ্বাসে ব্যক্তির অধিকার কোনো গৌণ বিষয় নয়।
কেন তওবার সঙ্গে অন্যের অধিকারও ফিরিয়ে দিতে হবে
নিঃস্ব মুসলিমের হাদিসকে এভাবে বোঝা উচিত নয় যে, কোনো মুসলিম জীবনে কখনো কারও প্রতি অন্যায় করে থাকলে অবশ্যই তার সব নেক আমল হারিয়ে যাবে।
বরং এই হাদিসে এমন অন্যায়ের পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে, যেগুলোর নিষ্পত্তি আল্লাহর বিচার ও ফয়সালার অধীন থাকবে। ইসলামে তওবার পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু অন্য মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শুধু নিজের মনে অনুতপ্ত হওয়াই যথেষ্ট নয়।
কারও সম্পদ নেওয়া হলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে, অথবা যথাযথভাবে সেই দায় নিষ্পত্তি করতে হবে। কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে অন্যায়ের ধরন অনুযায়ী ক্ষতি পূরণ, প্রতিকার এবং ক্ষমা প্রার্থনার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আল্লাহ সূরা আন-নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দিয়েছেন, আমানত তার প্রকৃত অধিকারীদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং মানুষের মধ্যে বিচার করতে হবে ন্যায়বিচারের সঙ্গে।
পৃথিবীতে থাকতেই এসব দায়দেনা মিটিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মৃত্যুর পর কোনো ব্যক্তি ধরে নিতে পারেন না যে, অর্থ, প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত সুনাম তাঁকে অন্য মানুষের দাবির মুখে সুরক্ষা দেবে।
সতর্কবাণী ইবাদতের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে
এই হাদিসকে নামাজ, রোজা কিংবা জাকাতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। ইসলামে এগুলো মৌলিক দায়িত্ব। নবী মুহাম্মদ ﷺএই ইবাদতগুলোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, কারণ এগুলো মূল্যবান নেক আমল। এগুলো হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই সতর্কবাণীটিকে এত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এই হাদিসের শিক্ষা হলো, একজন মুসলিমের ধর্মীয় অবস্থান কেবল তার প্রকাশ্য ইবাদত দিয়ে বিচার করা যায় না। অন্য মানুষের সঙ্গে সে কেমন আচরণ করে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
কেউ নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারেন, অথচ অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে অসতর্ক হতে পারেন। কেউ দান-সদকা করতে পারেন, অথচ অন্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখতে পারেন। আবার কেউ নফল রোজা রাখতে পারেন, অথচ নিয়মিত অন্যকে অপমান বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে পারেন।
ইসলাম এ ধরনের বৈপরীত্যকে নৈতিকভাবে গুরুত্বহীন বলে বিবেচনা করে না। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আম্বিয়ার ৪৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের পাল্লা স্থাপন করা হবে এবং কোনো ব্যক্তির প্রতি সামান্যতমও অন্যায় করা হবে না, এমনকি তা সরিষার দানা পরিমাণ হলেও। জবাবদিহির মধ্যে আল্লাহর প্রতি মানুষের দায়িত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি মানুষের দায়িত্বও রয়েছে।
উপসংহার
নিঃস্ব মুসলিমের হাদিসটি কিয়ামতের দিন কীভাবে অন্যায় একজন মানুষের মর্যাদা ও পরিণতিকে বিপন্ন করতে পারে, তার অন্যতম স্পষ্ট বর্ণনা। এখানে বর্ণিত ব্যক্তি ইবাদতহীন নন। তিনি নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবেন। কিন্তু তাঁর আমলনামায় এমন মানুষেরও অনিষ্পন্ন দাবি থাকবে, যাদের তিনি গালি দিয়েছেন, অপবাদ দিয়েছেন, শোষণ করেছেন কিংবা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
নবী মুহাম্মদ ﷺ ব্যাখ্যা করেছেন, এসব দাবি তাঁর নেক আমল থেকে পূরণ করা হবে। নেক আমল শেষ হয়ে গেলে অবশিষ্ট দায়ের কারণে যাদের প্রতি তিনি অন্যায় করেছেন, তাদের পাপ তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।
এই শিক্ষার তাৎপর্য শুধু আদালত, বাজার কিংবা আর্থিক ঋণ পরিশোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সুনাম, মর্যাদা, শারীরিক নিরাপত্তা এবং ন্যায্য অধিকারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ‘আল-মুফলিস’ বা নিঃস্ব ব্যক্তির হাদিসের শিক্ষা শুধু আরও বেশি নেক আমল সঞ্চয় করা নয়। বরং অন্যায় করে সেই নেক আমল হারিয়ে ফেলা থেকে নিজেকে রক্ষা করা। হিসাব-নিকাশ মিটিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময় দুনিয়াতেই, সেই দিন আসার আগে, যেদিন আর্থিক সম্পদ দিয়ে কোনো পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।
তারিখ: ২১ অক্টোবর ২০২৬
কৃতজ্ঞতায়: SunnaFiles Web
কিয়ামতের দিন নিঃস্ব মুসলিম: যখন কেড়ে নেওয়া হবে নেক আমল
আসামে উচ্ছেদ ১,১০০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১০টি মসজিদ
কাশ্মীরে মসজিদগুলোতে একই খুতবা চালুর প্রস্তাব ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সাইবার বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: মুসলিমদের স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
কিয়ামতের দিন নিঃস্ব মুসলিম: যখন কেড়ে নেওয়া হবে নেক আমল
আসামে উচ্ছেদ ১,১০০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১০টি মসজিদ
কাশ্মীরে মসজিদগুলোতে একই খুতবা চালুর প্রস্তাব ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সাইবার বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: মুসলিমদের স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ