দাজ্জাল শব্দটি আরবি ধাতু ‘দাজল’ থেকে এসেছে। এর অর্থ প্রতারণা, ধোঁকা ও মিথ্যা। দাজ্জাল এমন এক ব্যক্তি, যে কিয়ামতের শেষ সময়ে আবির্ভূত হবে এবং মিথ্যাভাবে নিজেকে উপাস্য হিসেবে দাবি করবে। আল্লাহ তার মাধ্যমে কিছু অসাধারণ ঘটনা ঘটার সুযোগ দেবেন, যার ফলে মানুষের জন্য তার পরীক্ষা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তার আবির্ভাব মানুষের ঈমানকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেবে এবং ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। এর ফলে মানুষ মূলত তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে।
প্রথম দল হবে তারা, যারা দাজ্জালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তার অনুসরণ করবে। কেউ বিশ্বাস থেকে, কেউ নিজের প্রবৃত্তির কারণে এবং কেউ ভয় থেকে তার অনুসারী হবে। দ্বিতীয় দল হবে তারা, যারা তাকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং তার ফিতনা থেকে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করবে। তৃতীয় দল হবে তারা, যারা তাকে প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি তার প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
প্রত্যেক নবীই নিজ নিজ জাতিকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের ঈমানের জন্য তার বিপদ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে সতর্ক করেছেন।
তিনি দাজ্জালের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, তার প্রতারণামূলক অলৌকিক কর্মকাণ্ড, তার অনুসারী, পৃথিবীতে তার অবস্থানের সময়কাল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম উম্মাহকে সন্দেহ ও প্রতারণা থেকে রক্ষা করা।
দাজ্জাল সম্পর্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সতর্কবার্তা
যদিও দাজ্জাল কিয়ামতের শেষ সময়ে আবির্ভূত হবে, তবুও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর আগে আগত নবীগণ নিজ নিজ জাতিকে তার ভয়াবহ ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন।
দাজ্জালের ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সতর্কতা এতটাই গুরুতর ছিল যে, তিনি দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াকে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, দাজ্জালের প্রতারণা কতটা ভয়াবহ হবে। তার কারণে মানুষ তাদের ঈমান এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস নিয়েই সন্দেহে পড়ে যেতে পারে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করতেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কবরের আজাব, জাহান্নামের শাস্তি, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা এবং মিথ্যা মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।” বুখারি
একইভাবে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের তার ব্যাপারে সতর্ক করছি। এমন কোনো নবী ছিলেন না, যিনি তার জাতিকে তার ব্যাপারে সতর্ক করেননি।” বুখারি ও মুসলিম
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালের ফিতনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, “আদমের সৃষ্টি থেকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে গুরুতর কোনো বিষয় নেই।” মুসলিম
দাজ্জাল কোথায় এবং কখন আবির্ভূত হবে?
সহিহ মুসলিমে তামিম আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, দাজ্জাল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় থেকেই বিদ্যমান ছিল। এমনকি তার আগেও সে ছিল কি না, সে সম্ভাবনাও রয়েছে।
বর্তমানে সে একটি দ্বীপে বন্দি অবস্থায় রয়েছে এবং আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। কিয়ামতের শেষ সময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। তার আবির্ভাব এমন এক সময়ে হবে, যখন পৃথিবীতে ব্যাপক ফিতনা, যুদ্ধ এবং ধর্মীয় অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়বে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবিদের বলেছিলেন, “মুসলমানরা এমন একটি শহর জয় করবে, যার একাংশ স্থলভাগে এবং অন্য অংশ সমুদ্রের মধ্যে অবস্থিত। আল্লাহ তাদের বিজয় দান করবেন এবং তারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিয়ে আনন্দ করবে। হঠাৎ তারা একটি আওয়াজ শুনবে, ‘দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করেছে।’ তখন তারা সবকিছু ছেড়ে দ্রুত ফিরে আসবে।” মুসলিম
অন্য একটি বর্ণনায় হুযায়ফা ইবনে আসিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবিদের কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন, “তোমরা কিয়ামতের আগে দশটি বড় নিদর্শন না দেখা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। সেগুলো হলো ধোঁয়া, দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরদ বা ভূমি থেকে বের হওয়া প্রাণী, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া, মারইয়ামপুত্র ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ, ইয়াজুজ ও মাজুজের আবির্ভাব এবং তিনটি বড় ভূমিধস। একটি পূর্বদিকে, একটি পশ্চিমদিকে এবং একটি আরব উপদ্বীপে হবে। এসব নিদর্শনের সর্বশেষটি হবে ইয়েমেন থেকে একটি আগুনের আবির্ভাব, যা মানুষকে তাদের চূড়ান্ত সমবেত হওয়ার স্থানের দিকে নিয়ে যাবে।” মুসলিম
এই নিদর্শনগুলোর সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে ইমাম কুরতুবিসহ অনেক ইসলামি আলেম বলেছেন, এসব বড় নিদর্শনের মধ্যে প্রথমটি হবে দাজ্জালের আবির্ভাব।
তিনি আত তাযকিরা গ্রন্থে লিখেছেন, “নিশ্চয়ই নিদর্শনগুলোর প্রথমটি হবে দাজ্জালের আবির্ভাব।”
উপসংহার
দাজ্জালের আবির্ভাব মানবজাতির সামনে আসা সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হবে। তার প্রতারণা হবে নজিরবিহীন এবং এর ফলে বহু মানুষের ঈমান মারাত্মকভাবে নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যাপক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি দোয়া, জ্ঞান এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
দাজ্জালের আবির্ভাব কিয়ামতের সময় ঘনিয়ে আসার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন। ইসলামের পরকালীন বিশ্বাস ও কিয়ামতের ঘটনাপ্রবাহে দাজ্জালের ভূমিকা সম্পর্কে জ্ঞান একজন মুমিনের সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং তার প্রতারণার বিরুদ্ধে নিজেকে দৃঢ় রাখার শক্তি জোগায়।
দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো ঈমানকে দৃঢ় করা, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করা।
তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৬
কৃতজ্ঞতায়: SunnahFiles Web
কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত: দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ও তার ফিতনা থেকে মুক্তির পথ
গাজা যুদ্ধ বন্ধে একের পর এক উদ্যোগ, কিন্তু কেন বারবার ব্যর্থ হলো আলোচনা?
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশ গাজা শান্তি পরিষদ চুক্তির শর্তাবলি
মুসলিম তরুণদের জন্য সূরা আল-কাহফের ৫টি অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষা
যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনেই একটি মসজিদে হামলা: বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, শঙ্কায় মুসলিম সমাজ
লন্ডনে AMTC-এর উদ্যোগে উদ্যোক্তা ও ফাউন্ডার মিটিং অনুষ্ঠিত
উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকিতে ফেলছে চীনের নতুন আইন
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করো
যুক্তরাজ্যে তাবলিগের ইজতেমায় হামলার আশঙ্কায় ডজনখানেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা; আহত ৬
গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত ইসরায়েলের
বিভাজনের নীতি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরোধের পথেই অবিচল গাজাবাসী
যুক্তরাজ্যে ইমামের বাড়িতে পেট্রোলবোমা হামলা, মসজিদের বাইরে উদ্ধার সন্দেহজনক বস্তু
পশ্চিমা দেশ ছেড়ে হিজরাহ: সন্তান প্রতিপালনে কেন দুবাই-সৌদির চেয়ে মিশর এগিয়ে?
মাওলানা পীর মুজাফফর আহমদ: রোহিঙ্গা মুসলিমদের এক আধ্যাত্মিক অভিভাবক
কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত: দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ও তার ফিতনা থেকে মুক্তির পথ
গাজা যুদ্ধ বন্ধে একের পর এক উদ্যোগ, কিন্তু কেন বারবার ব্যর্থ হলো আলোচনা?
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশ গাজা শান্তি পরিষদ চুক্তির শর্তাবলি
মুসলিম তরুণদের জন্য সূরা আল-কাহফের ৫টি অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষা
যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনেই একটি মসজিদে হামলা: বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, শঙ্কায় মুসলিম সমাজ
লন্ডনে AMTC-এর উদ্যোগে উদ্যোক্তা ও ফাউন্ডার মিটিং অনুষ্ঠিত
উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকিতে ফেলছে চীনের নতুন আইন
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করো
যুক্তরাজ্যে তাবলিগের ইজতেমায় হামলার আশঙ্কায় ডজনখানেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা; আহত ৬
গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত ইসরায়েলের
বিভাজনের নীতি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরোধের পথেই অবিচল গাজাবাসী
যুক্তরাজ্যে ইমামের বাড়িতে পেট্রোলবোমা হামলা, মসজিদের বাইরে উদ্ধার সন্দেহজনক বস্তু
পশ্চিমা দেশ ছেড়ে হিজরাহ: সন্তান প্রতিপালনে কেন দুবাই-সৌদির চেয়ে মিশর এগিয়ে?
মাওলানা পীর মুজাফফর আহমদ: রোহিঙ্গা মুসলিমদের এক আধ্যাত্মিক অভিভাবক