বেতন কম, করের বোঝা ও আবাসনের সংকট, তরুণ পেশাজীবীরা ভবিষ্যৎ দেখছেন বিদেশে
ব্রিটেনে তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীদের দেশত্যাগ ক্রমেই বাড়ছে। কম বেতন, বাড়তি করের চাপ এবং সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব তাদের বিদেশে নতুন জীবনের খোঁজে ঠেলে দিচ্ছে। তরুণদের দেশত্যাগের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের অর্থনীতিবিদরা। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে এই প্রবণতাকে বলা হয়েছে “মেধার নীরব রক্তক্ষরণ” কারণ অনেক তরুণ ব্রিটিশ নাগরিক এখন দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশায় ভুগছেন।
র্যাথবোনসের ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী ক্যামিলা স্টোয়েল বলেন, ‘‘ব্রিটিশ নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উন্নত জীবনযাপনের লক্ষ্যে দেশত্যাগের প্রবণতা বাড়ছে। তার ভাষায়, “তরুণরা এখন নতুন দেশে গিয়ে পেশাগত জীবন গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন।”
স্টোয়েল আরও জানান, বর্তমানে ব্রিটিশ তরুণদের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য হলো দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ড। কারণ এসব দেশে করব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং ব্যবসা বা ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ অনেক বেশি।
উচ্চ কর, অপ্রতুল আয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি নতুন গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বেতনে চাপ তৈরি করছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এ মাসের বাজেটে ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ৪% বাড়িয়ে ১২.৭০ পাউন্ড (প্রায় ১৬ ডলার) করার ঘোষণা দিতে পারেন। এতে বার্ষিক আয় দাঁড়াবে প্রায় ২৬,৪১৬ পাউন্ড (৩৩,৪০০ ডলার)। কিন্তু গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ফাইন্যান্স ও প্রফেশনাল সার্ভিস খাতে গড় প্রারম্ভিক বেতন এখন মাত্র ২৫,৭২৬ পাউন্ড (৩২,৫০০ ডলার) অর্থাৎ ব্যবধান খুবই সামান্য, যা তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।
ইভলিন পার্টনার্স ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের শেয়ার হোল্ডার ডেভিড লিটল বলেন, “তরুণদের দেশত্যাগের প্রবণতা নিয়মিত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ পেশাজীবীরা সাময়িক অভিজ্ঞতার জন্য নয়, বরং স্থায়ীভাবে অন্যত্র বসবাসের লক্ষ্যে দেশ ছাড়ছেন।” তিনি আরো বলেন, “সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো অনেক মা-বাবাও তাদের সন্তানদের এই সিদ্ধান্তে উৎসাহ দিচ্ছেন।” কারণ তারা নিজেরাও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী নন।
দুবাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই এখন ব্রিটিশ তরুণদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় কর্মস্থল হয়ে উঠেছে। গত পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবাসন সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা ৪০০% বেড়েছে। ডেভিড লিটল জানান, “দুবাইয়ে কাজ মানে করমুক্ত আয়, পাশাপাশি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকে আবাসন ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং সন্তানদের জন্য বিনামূল্যের স্কুল। অন্যদিকে ব্রিটেনে কর ও ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স মিলে আয়ের প্রায় ৪৫% চলে যায়, স্কটল্যান্ডে এই হার আরও বেশি।”
সম্প্রতি অ্যাডাম স্মিথ ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রতি চারজন ব্রিটিশ তরুণের একজন এখন দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ কাউন্সিল–এর আরেক জরিপে দেখা গেছে, তিন-চতুর্থাংশ তরুণই ভবিষ্যতে বিদেশে কাজ বা স্থায়ী হওয়ার ব্যাপারে চিন্তা করছেন।
করের ভারে ন্যুব্জ অর্থনীতি
ডেভিড লিটলের মতে, “ব্রিটেনে মানুষের হতাশা এখন দৃশ্যমান। দেশটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব বৃদ্ধি, আস্থার ঘাটতি ও অপরাধ নিয়ে উদ্বেগের মুখে পড়েছে।” তিনি বলেন, “গত ৭০ বছরের মধ্যে এখন করের বোঝা সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ফলে তরুণদের দেশেই থাকতে রাজি করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
অন্যদিকে ক্যামিলা স্টোয়েল মনে করেন, গত বছরের বাজেটে করব্যবস্থায় আনা পরিবর্তন বিশেষ করে উত্তরাধিকার করের আওতা বাড়িয়ে পেনশন ফান্ড ও কৃষিজমি অন্তর্ভুক্ত করা, আরও অনেক পরিবারকে বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করতে বাধ্য করেছে। তার ভাষায়, “কর ব্যবস্থার অচলাবস্থা আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা এখন এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়া প্রায় অসম্ভব।”
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস তাদের প্রতিবেদনের শেষে বলেছে, “নতুন প্রজন্ম আর ব্রিটেনকে বসবাস উপযোগী দেশ হিসেবে নয় বরং অর্থনৈতিক চাপ ও সীমিত সম্ভাবনার এক ক্লান্তিকর পরিবেশ হিসেবে দেখছে ।” তরুণদের কাছে “ব্রিটিশ ড্রিম” এখন আর স্থায়ী সুখের প্রতীক নয়, বরং বিদেশে নতুন জীবন গড়ার এক অনন্ত প্রেরণা হয়ে উঠছে।
আল জাজিরা থেকে নেওয়া।
হালাল এওয়ারনেস নেটওয়ার্কের উদ্যেগে রোড ট্রিপ ও নিউক্যাসলে দিনব্যাপী হালাল স্ট্রিট ক্যাম্পেইন সমাপ্ত
গাজায় গণহত্যার নতুন কৌশল: নিভৃতে চলছে নিধন
আল-আকসা দখল হলে আমাদের করণীয় কী ?
‘বাংলাদেশে দ্বীনের খেদমতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের করণীয়: যুবসমাজ, পরিবার ও ইসলামী পরিচয় রক্ষায় ভূমিকা’ শীর্ষক
গাজায় চরম পানি সংকট: আল-মাওয়াসিতে তৃষ্ণায় মৃত্যুর মুখে হাজারো মানুষ
ইসরায়েলের ‘একতরফা মৃত্যুদণ্ড’ নীতি: আট দেশের তীব্র নিন্দা
সিলেটে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যেগে ফ্রি সুন্নাতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ফিলিস্তিনি মুসলিম পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা ইসরায়েলের
গাজায় নারীদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশও দিচ্ছে না ইসরায়েল: অ্যামনেস্টি
আল-আকসা মসজিদ কি শিগগিরই বন্ধ হতে যাচ্ছে?
গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে সুদানের দুর্ভিক্ষ: ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে রমজানের আগমন
গাজায় “দ্য ভ্যাপোরাইজড”: এক অনুসন্ধানে এমন ইসরায়েলি অস্ত্রের তথ্য উঠে এসেছে, যা হাজারো ফিলিস্তিনিকে নিশ্চিহ্ন
নেতানিয়াহুর বন্ধুর কবজায় টিকটক: অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই
গাজা এখন “আল-মসীহ আদ-দাজ্জাল”-এর শাসনের অধীনে
ইহুদি ধর্মগ্রন্থ, জায়নবাদ ও মুসলিমদের জন্য সচেতন পাঠ: ইতিহাস, আদর্শ ও বাস্তবতার মুখোমুখি
হালাল এওয়ারনেস নেটওয়ার্কের উদ্যেগে রোড ট্রিপ ও নিউক্যাসলে দিনব্যাপী হালাল স্ট্রিট ক্যাম্পেইন সমাপ্ত
গাজায় গণহত্যার নতুন কৌশল: নিভৃতে চলছে নিধন
আল-আকসা দখল হলে আমাদের করণীয় কী ?
‘বাংলাদেশে দ্বীনের খেদমতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের করণীয়: যুবসমাজ, পরিবার ও ইসলামী পরিচয় রক্ষায় ভূমিকা’ শীর্ষক
গাজায় চরম পানি সংকট: আল-মাওয়াসিতে তৃষ্ণায় মৃত্যুর মুখে হাজারো মানুষ
ইসরায়েলের ‘একতরফা মৃত্যুদণ্ড’ নীতি: আট দেশের তীব্র নিন্দা
সিলেটে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যেগে ফ্রি সুন্নাতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ফিলিস্তিনি মুসলিম পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা ইসরায়েলের
গাজায় নারীদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশও দিচ্ছে না ইসরায়েল: অ্যামনেস্টি
আল-আকসা মসজিদ কি শিগগিরই বন্ধ হতে যাচ্ছে?
গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে সুদানের দুর্ভিক্ষ: ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে রমজানের আগমন
গাজায় “দ্য ভ্যাপোরাইজড”: এক অনুসন্ধানে এমন ইসরায়েলি অস্ত্রের তথ্য উঠে এসেছে, যা হাজারো ফিলিস্তিনিকে নিশ্চিহ্ন
নেতানিয়াহুর বন্ধুর কবজায় টিকটক: অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই
গাজা এখন “আল-মসীহ আদ-দাজ্জাল”-এর শাসনের অধীনে
ইহুদি ধর্মগ্রন্থ, জায়নবাদ ও মুসলিমদের জন্য সচেতন পাঠ: ইতিহাস, আদর্শ ও বাস্তবতার মুখোমুখি