সর্বশেষ
  হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলাও সেদিকে করতে হয়   শায়খে বাঘা রহ.’এর নামে পাকিস্তানে মসজিদ নির্মাণ করছে সিম্পল রিজন চ্যারিটি   কুইন মেরী ইউনিভার্সিটির গবেষণা ‘জেনোসাইড ইন মায়ানমার’   গ্রন্থ পর্যালোচনা: দ্যা রুম হোয়ার ইট হ্যাপেন্ড   গ্রন্থ পর্যালোচনা: ইবনে খালদুনের দ্য মুকাদ্দিমা   সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জে শীতকালীন ফুড এইড কার্যক্রম সম্পন্ন   সিলেটে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যেগে ফ্রি সুন্নাতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত   ইস্তাম্বুলে হালাল ফুড এক্সপোতে দ্য এসোসিয়েশন অব হালাল রিটেইলারস ইউকের অংশগ্রহণ   লন্ডনে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে 'সেবার মাধ্যমে দাওয়াহ' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত   সিম্পল রিজনের সহযোগীতায় বগুড়ায় দাওয়াহ হালাকাহ অনুষ্ঠিত   সিলেটে নববী দাওয়াহ : পদ্ধতি ও শিক্ষা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত   নোয়াখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সিম্পল রিজনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান   লক্ষীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সিম্পল রিজন চ্যারিটির ত্রাণ বিতরণ   কুরবানি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিধান। মুফতি শরীফ মোহাম্মদ সাঈদ   লন্ডনে সিম্পল রিজনের অফিস পরিদর্শন করলেন মুফতি সাইফুল ইসলাম   লিডসে শায়েখে বাঘা রহঃ-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত   বার্মিংহামে শায়েখে বাঘা রহঃ জীবন ও কর্ম শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত   লন্ডনের সভায় আলেমরা বি এ এস বি কমপ্লেক্সকে সহযোগিতার আহবান জানালেন।   বই- বশীর আহমদ শায়খে বাঘা রহ.   বায়রাক্তার টিবি২ দীপ্তিমান করছে তুরস্কের ভাগ্য   জার্মানিতে বছরে শতাধিক মসজিদে হামলা; উদ্বিগ্ন মুসলিমরা   বুজুর্গ উমেদ খাঁ। চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের মহানায়ক!   ডুরান্ড লাইন! পাক - আফগান দ্বন্দ্বের রেড লাইন!   ত্রিপুরা ও বাংলার ঐতিহাসিক সম্পর্ক | পর্ব ২   ত্রিপুরার সাথে ইসলাম এবং বাংলাদেশের সহস্র বছরের যোগসূত্রের সন্ধানে!   আসামের বর্তমান পরিস্থিতি!   আসামে ইসলামের আগমন ও এন আর সি ক্রাইসিস।   নবাব নুর উদ্দিন মুহাম্মদ বাকের জং। ইতিহাসে ঠাঁই না পাওয়া বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব!   প্রাক-ইসলামিক আরব। ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতি।   ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষের অবিচ্ছিন্ন জলপথ আবিষ্কার।   আফ্রিকার বুকে পর্তুগীজ কলোনি স্থাপনের ইতিহাস।   পূর্ব আফ্রিকায় পর্তুগিজ উপনিবেশ স্থাপন, শোষণ ও ফলাফল   ধর্ষণের আলামত যেভাবে পরীক্ষা করা হয়।   মেটাভার্স   বাংলাদেশের সাথে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় তুরস্ক   লিবারেলিজম।   ইউরোপে ইসলাম বিদ্বেষের উত্থান।    পাকিস্তানে ইসলামী দল, তেহরিক-ই-লাব্বাইক নিষিদ্ধের ঘোষণা।   ২০২০ সালের দিল্লি সহিংসতা ছিল একটি সংগঠিত, পরিকল্পিত ‘প্রোগ্রাম’। এবং কেন?   ২০০২ সালের গুজরাট গণহত্যা ও নরেন্দ্র মোদি   রিবা নির্মূল হতে পারে সীরাতের পন্থায়!   ১৯৯১ সালে কাশ্মীরের কুনান ও পোশপোরায় গণধর্ষণ। আজও বিচার হয়নি।   নজরদারি: ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত’   ব্যবসার সঙ্গে অন্য সংস্কৃতিকে যুক্ত করার এজেন্ডা!

হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলাও সেদিকে করতে হয়

৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    শেয়ার করুন

বাংলাদেশের বিশিষ্ট মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়ার জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার বাগুয়া গ্রামে। ১৯৭৮ সালে তিনি সিলেটের জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ:) থেকে দাওরা হাদিস পাশ করেন। এই সময় তিনি আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা'লীম বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরা হাদিসের ফাইনাল পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক মার্কসহ শীর্ষস্থান লাভ করেন। ১১ শাওয়াল ১৩৯৮ হিজরিতে জামেয়ায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২৭ জিলক্বদ ১৪৩০ হিজরিতে তিনি দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম হন। ২ ডিসেম্বর ২০১৩ মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া লন্ডনের বো'তে আল আহরার-এর মুখোমুখি হন। আগামী ৬, ৭, ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দরগা মাদরাসার দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন, লন্ডন ভ্রমণের নানা অভিজ্ঞতা, নিজের শিক্ষা ও কর্মজীবন নিয়ে আল আহরার-এর সঙ্গে কথা বলেন তিনি।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল আহরার সম্পাদক হোসাইন আহমদ।  গ্লোবাল  অ্যাফেয়ার্সের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল—

আল আহরার: আপনি ব্রিটেনে এসেছেন, অথচ এখনো অনেকে বিষয়টি জানেন না।  গেলবার যখন এলেন, অনেকের জানা ছিলো না। এভাবে নীরবে এসে নীরবে চলে যাওয়া....

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: আমি তো নিজেকে ঐভাবে প্রচার করতে চাই না। আর নিজেকে প্রচারের উপযুক্তও মনে করি না। এজন্য নীরবে আসি, নীরবে চলে যাই। তাছাড়া প্রথমবার যখন এসেছিলাম তখন হাতে সময় ছিলো কম। মাত্র পয়ত্রিশ দিনের সফর ছিলো। তাই সেভাবে সবাইকে জানানো হয়নি। এবার তো অনেকের সাথেই দেখা হলো। ।

আল আহরার: লন্ডনে আপনার দিনকাল কীভাবে কাটছে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: নভেম্বরের ২ তারিখ ঢাকা থেকে ফ্লাইট হলো। ৩ নভেম্বর লন্ডনের হিথ্রোতে এসে অবতরণ করি। আমি শুধু লন্ডনে থাকছি না। ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর সফর করছি। দিনগুলো খুব ভালোই কাটছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমার তো মনে হয়, আমি সিলেটের কোথাও আছি। বিদেশে এসেছি, মনে হয় না। সিলেটের মানুষের সাথে চলাফেরা, ওঠা-বসা হচ্ছে সবসময়, সুতরাং এযে বিদেশ, ভাবা যায় না।

আল আহরার: ব্রিটেনের কোন জিনিস আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি। এটা দেখে আমার মনে অনেক আনন্দ লাগছে। মসজিদের কাতারে কাতারে বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সাথে নতুন মুসলিম হওয়া এদেশীয় কিছু মুসলমানদের যখন দেখতে পাওয়া যায়, তখন এক অনুপম দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। আমার মনে হয়, অদূর ভবিষ্যতে এদেশেও ইসলামের উত্থান হবে। মুসলমানরা যদি একটু ইসলামের আদর্শ ও উত্তম চরিত্র নিয়ে চলাফেরা করেন, তবে এদেশের অমুসলিমরা হয়তো দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করবে।

আল আহরার: যারা ইসালামে দীক্ষিত হচ্ছেন, তারা কী এদেশের মুসলমানদের আদর্শ দেখে দীক্ষিত হচ্ছেন? আপনার কী মনে হয়?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: আমার তো মনে হয় এইসব অমুসলিম দেশে মানুষ মুসলমানদের আদর্শ দেখে ইসলাম গ্রহণ করছে না, বরং তারা ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম নিয়ে তুলনামূলক পর্যালোচনা করে ইসলাম গ্রহণ করছে। তারা পড়াশোনা করে কুরআনকে সত্য কিতাব পেয়েছে। তবে মুসলমানরা যদি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অনুপম আদর্শের অনুসারী হয়ে যায়, তাহলে এদের গবেষণার প্রয়োজন পড়বে না। মুসলমানদের দেখেই মুগ্ধ হয়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করবে।


আল আহরার: লন্ডনে বাকি দিনগুলোর আপনার সফরসূচী কী?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: লন্ডন শহরে আরো দু'তিন দিন থাকবো। তারপর ওল্ডহাম, ম্যানচেষ্টার এবং ডিউজবারীতে পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রামে যোগ দিতে যাবো। ৯ ডিসেম্বর ওল্ডহাম যাবো, আর ১৫ ডিসেম্বর লুটনে মুফতি আব্দুল হান্নান সাহেবের মাদরাসায় খতমে বুখারির এক দোয়ায় উপস্থিত থাকার কথা আছে। তাঁর মাদরাসার দাওরা হাদিসের কয়েকজন ছাত্রী মিলে নাকি বুখারি শরীফ খতম করেছে। ১৬ ডিসেম্বর মাইল্যান্ড মাদরাসায় দরগার ফুজালা ও সুধীদের নিয়ে একটি বৈঠক আছে।

আল আহরার: ফুজালা সম্মেলনের প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: ফুজালা সম্মেলনের প্রস্তুতির মূল কাজ দেশে পুরোদমে চলছে। প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাছাড়া বিদেশী অতিথি যাদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা ছিলো তাদের দাওয়াত করার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন দেশীয় অতিথিদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আশা তো করছি, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও বুজুর্গানে দ্বীন এই সম্মেলনে উপস্থিত হবেন।

আল আহরার: বিদেশী মেহমানদের মধ্যে কারা কারা আসছেন? 

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: মক্কা শরীফের উসতাদুল হারামাইন মোহাম্মদ মক্কীকে দাওয়াত করা হয়েছে। তিনি আসবেন বলে কথা দিয়েছেন। তাছাড়া ভারতের হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানী, দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান শায়খুল হাদিস হযরত মাওলানা সাঈদ আহমদ পালনপুরী এবং দারুল উলুম দেওবন্দ ওকফের হাদিসের উসতাদ ও হাকিমুল ইসলাম ক্বারী তায়্যিব (রহ:) এর দ্বিতীয় সন্তান হযরত মাওলানা আসলাম ক্বাসিমী দাওয়াত কবুল করেছেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই আলেম হযরত মাওলানা রফী উসমানী ও হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ ত্বকী উসমানীও দাওয়াত কবুল করেছেন।

আল আহরার: ব্রিটেন থেকে কোন অতিথি যোগ দিবেন কি?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: ব্রিটেনে বাংলাদেশি যারা আছেন তাদের অনেককেই দাওয়াত করেছি। লুটনের মুফতি আব্দুল হান্নান সাহেব যাবেন বলে কথা দিয়েছেন। বেরী মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা বেলাল বাওয়া দাওয়াত কবুল করেছেন। দেশের সার্বিক অবস্থা ভালো থাকলে ইনশাআল্লাহ তাঁরা উপস্থিত হবেন। হযরত মাওলানা সালিম দাহুরাত সাহেবকে দাওয়াত করেছি। তবে তাঁর যাওয়ার সম্মতি এখনো পাইনি।

আল আহরার: সারা বিশ্ব থেকে এতো এতো উলামায়ে কেরাম সম্মেলনে উপস্থিত হবেন, আমার নিজেরও তো যাওয়ার ইচ্ছে করছে।

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: আমার পক্ষ থেকে আপনার দাওয়াত। উপস্থিত হলে তো অবশ্যই আমরা খুশি হবো।

আল আহরার: আপনাদের মাদরাসা থেকে পাশ করা প্রবাসী ছাত্ররা কীভাবে পাগড়ী গ্রহণ করবেন? এই ধরুন, ব্রিটেনে আমাদের জানামতে আপনাদের ফাজিল অনেক ছাত্র থাকেন।

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: প্রবাসী ছাত্রদের মধ্যে যারা সম্মেলনে উপস্থিত হবেন, তারা তো সরাসরি পাগড়ী গ্রহণ করবেন। অথবা তাদের পক্ষ থেকে যদি কোনো প্রতিনিধি নিয়োগ করেন, তাহলে প্রতিনিধি পাগড়ী গ্রহণ করতে পারবে। আমরা সবার বাড়ির ঠিকানায় চিঠিপত্র দিয়েছি। তারপরও যদি দেখা যায় ব্রিটেনে অনেক ফাজিল বাকি রয়ে গেছেন, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো সফরে এলে হয়তো এইদেশে তাদের পাগড়ী দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আল আহরার: পাগড়ীর সাথে কি ফুজালাদের কোন লিখিত সম্মাননা দেওয়া হবে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: ফুজালাদের মাদরাসার পক্ষ থেকে একটা পরিচয়পত্র তো অবশ্যই দেওয়া হবে। তাছাড়া ফুজালাদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন তাদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে।

আল আহরার: যেমন...

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: রাজনীতি, লেখালেখি, সমাজসেবা ও শিক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে বাছাইকৃতদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া যেতে পারে।

আল আহরার: ফুজালা সম্মেলন উপলক্ষে কোনো স্মারক বের হবে কি?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: হ্যাঁ, বের হবে। কাজ চলছে। ইনশাআল্লাহ বিরাট আকারের স্মারক বের হবে।

আল আহরার: স্মারকে প্রকাশ হবে এমন বিশেষ কিছুর কথা যদি বলেন?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: ফুজালাদের মধ্যে যাঁরা লেখক, তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও বইপত্রের নাম স্মারকে প্রকাশিত হবে। তাছাড়া জামেয়ার যেসব উসতাদ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন তাদের নাতিদীর্ঘ জীবনী প্রকাশের চেষ্টা চলছে।

আল আহরার: প্রায় তিন বছর তিন মাস হতে চললো আপনি দরগা মাদরাসার মুহতামিম। মুহতামিমের এই দায়িত্ব আপনার জীবনের সূচি কতটা পাল্টেছে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: আমি মুহতামিম হওয়ার আগে যেভাবে ছিলাম, এখনো সেভাবে আছি। মানে মুহতামিমের দায়িত্ব আমার পাঠদানে কোনো ব্যাঘাত ঘটায়নি। আমি নিয়মিত ক্লাস নিই এবং ইচ্ছে করেই আমি এই জায়গায় কোনো পরিবর্তন আনতে চাইনি। ফতোয়া বিভাগের দায়িত্ব পূর্বে যেমন আমার ওপর ছিলো এখনো আছে। এই বিভাগের ছাত্ররা সাধারণত আমার ওপর নির্ভর করে। মাদরাসার সর্ববিভাগের তদারকি করতে হয় বিধায় দিনের বেলায় ফতোয়া বিভাগের ছাত্রদের নিয়ে বসা সম্ভব হয় না। এশার নামাযের পর তাদের নিয়ে বসি, এতে কখনো রাত তিনটা বাজে আর কী। এভাবে একটু কষ্ট করে সময় বের করে নিতে হয়। তবে বাইরের প্রোগ্রামগুলোতে এখন খুব বেশি যেতে হয়। বিভিন্ন মাদরাসা ও প্রতিষ্ঠান থেকে দাওয়াত আসে, সেখানে যোগ দিতে হয়। আমার ছাত্ররা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তাদের মন রক্ষার্থেও বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতে হয়। পূর্বের সূচিতে এতগুলো প্রোগ্রামে যোগ দিতে হত না, এখন যেভাবে যেতে হচ্ছে। এই জায়গায় এখন কিছুটা হলেও তো পরিবর্তন চলে এসেছে। তবে আমার মৌলিক যে কাজ পাঠদান করা, তাতে ইনশাআল্লাহ কোন পরিবর্তন আসে নাই। কোন পরিবর্তন আসুক, তা আমি চাইও না।

আল আহরার: আপনার ওপর চাপ তাহলে অনেক বেড়ে গেছে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: চাপ বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন, সেরকম আসলে কিছু না। এটা আমাদের মনের মধ্যে আসে, মনে চাপ বলেই হয়। আমরা যদি আমাদের আকাবিরদের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো, তারা একমূহুর্ত সময় নষ্ট করতেন না। কিন্তু আমাদের ঘাড়ে সামান্য একটু দায়িত্ব এসে পড়লেই মনে করতে শুরু করি, আমি পারবো না। মনের ইরাদা থাকলে সবকিছু করতে পারা যায়।

আল আহরার: আপনার ছাত্রজীবনের বিরাট একটা সময় এবং কর্মজীবনের পুরোটাই দরগা মাদরাসায় কেটেছে। সবাই না-হলেও অনেকেই কর্মস্থান পরিবর্তন করেন। কিন্তু আপনি এক জায়গায় এতোটা বছর পার করে গেলেন কীভাবে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: আমার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাগুয়া গ্রামে। গ্রামের মাদরাসায় আমার পড়াশোনা শুরু। মজার ব্যাপার হলো, যে বছর আমাদের গ্রামে মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হলো সে বছরই আমি মাদরাসায় যাই। সে মাদরাসার প্রথম ছাত্র বলতে শুধু আমি ছিলাম, কারণ আমি একমাত্র ছাত্র ছিলাম। তারপর জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া রামনগর মাদরাসায় সরফ জামাত থেকে কাফিয়া পর্যন্ত পড়াশোনা করি। ১৯৭৪ সালে দরগা মাদরাসায় এসে ভর্তি হই। ১৯৭৮ সালে দরগা মাদরাসা থেকে দাওরা হাদিস পাশ করি। কথা হচ্ছে, আমি যখন দরগা মাদরাসায় দাওরা হাদিস পড়ছিলাম তখন আমার কিছু শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বললেন, তুমি আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। তাঁদের ইশারা ইঙ্গিতে বুঝেছিলাম আমাকে এখানেই থাকতে হবে। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর হুজুরদের নেক তাওয়াজ্যুতেই বলতে হয় দরগা মাদরাসায়ই আমার শিক্ষকতার জীবন শুরু হয়। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দরগা মাদরাসায়ই আছি। মাদরাসা পরিবর্তনের কথা তো কখনো মাথায় আসে নাই। যেহেতু দরগা মাদরাসা আমার নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এখানেই আমি পড়াশোনা করেছি, তাই মৃত্যুপর্যন্ত আমি এখানেই থাকতে চাই। বাকি সব আল্লাহর ইচ্ছা। আমি তো মনে করি, এই মাদরাসায় আমার উসতাদদের আমার প্রতি যে মহববত ছিলো, আমার ছাত্রদের আমার প্রতি যে মহব্বত আছে, তার জোরেই আল্লাহ পাক আমাকে এখানে সারাটা জীবন পার করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আল আহরার: আপনার কয়েকজন উল্লেখযোগ্য উস্তাদদের কথা যদি আমাদের বলেন?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: আমি দরগা মাদরাসায় যখন দাওরাহ হাদিস পড়ি, তখন বুখারি শরিফের উসতাদ ছিলেন দুইজন। হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান (রহঃ) বুখারি শরিফের প্রথম অংশ পড়াতেন। তাঁর বাড়ি হলো হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার দিনারপুর গ্রামে। তিনি হযরত মাওলানা আব্দুল হাই দিনারপুরী (রহ:) এর ছোটভাই ছিলেন। বুখারি শরিফ দ্বিতীয় অংশ পড়েছি বাংলাদেশের একসময়ের মুহাক্কিক এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুফতি হযরত মাওলানা মুফতি রহমতুল্লাহ (রহ.) এর কাছে। তাঁর বাড়ি কানাইঘাট থানার তালবাড়িতে। হযরত মাওলানা ইসহাক সাহেবের কাছে তিরমিযী শরিফ জিলদে আউয়াল এবং মুসলিম শরিফ জিলদে সানী পড়েছি। বর্তমানে তিনি সোবহানীঘাট মাদরাসার শায়খুল হাদিস। এর আগে তিনি কাজিরবাজার মাদরাসায় ছিলেন দীর্ঘদিন। হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দিন সাহেবের কাছে মুসলিম শরিফ জিলদে আউয়াল এবং তিরমিযী শরিফ জিলদে সানী পড়েছি। তিনি বর্তমানে শয্যাশায়ী। (হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দিন সাহেব ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ রাত ৮ টা ২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। এই সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে তিনি জীবিত ছিলেন।) তাঁর বাড়িও তালবাড়িতে। জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগা মাদরাসার বর্তমান শায়খুল হাদিস ও সদরুল মুদাররিসিন হযরত মাওলানা মুহিববুল হক (গাছবাড়ী হুজুর) এর কাছে আবু দাউদ শরীফ মুকাম্মাল পড়েছি। বর্তমান রেঙ্গা মাদরাসার শায়খে ছানী হযরত মাওলানা নজির আহমদ সাহেবের কাছে নাসায়ী শরিফ ও ত্বাহাবী শরিফ পড়েছি। জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম ও দরগা মসজিদের দীর্ঘদিনের ইমাম আরিফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা আকবর আলী (রহ:) এর কাছে শামায়েলে তিরমিযী পড়েছি। হযরত মাওলানা বশিরুর রহমান (রহ:) এর কাছে ইবনে মাজাহ শরিফ পড়েছি। তিনি শারপার এলাকার শাহী ঈদগাহ মসজিদের ইমাম ছিলেন। এটি বিয়ানী বাজার এলাকায় অবস্থিত। হযরত মাওলানা আব্দুল জলীল (রহ.) যিনি নয়াসড়ক মসজিদের ইমাম ছিলেন, তাঁর কাছে পড়েছি মুয়াত্তা ইমাম মালেক (রহ:)। আমার উস্তাদদের অনেকেই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। বাকি যাঁরা জীবিত আছেন, আল্লাহ তাঁদের দীর্ঘ হায়াত দান করুন।

আল আহরার: মাওলানা আব্দুল বাসিত বরকতপুরী ৩০ বছর দরগা মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু আপনার মেয়াদে এসে তিনি দরগা মাদরাসা থেকে বিদায় নেন। তাঁর এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়ার হেতু কী?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: হঠাৎ চলে গেলেন কেনো, এটা তিনিই ভালো জানেন। আমরা তো তাঁকে বিদায় দিইনি। মাদরাসা থেকেও বিদায় দেওয়া হয় নাই। তিনি মাদরাসার কাছে বিদায়ের জন্য দরখাস্ত করলেন এবং আমি তাঁর এই দরখাস্ত মাদরাসার কমিটির কাছে উত্থাপন করি। তাঁরা বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে প্রথমে তাঁকে বিদায় দিতে চায়নি। কিন্তু পরে মজলিসে আমেলা (কার্যকারী কমিটি) কোনো বিশেষ কারণে আমাকে তাঁর দরখাস্ত মঞ্জুর করে নিতে নির্দেশ দিলে আমি তাতে সই করি।

আল আহরার: আপনার অবর্তমানে মাদরাসার দায়িত্ব কার ওপর ন্যস্ত করে এসেছেন?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: দায়িত্ব কারও উপর ন্যস্ত করা, এটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমাদের মাদরাসার সিস্টেম অনুযায়ী এটা কমিটির কাজ। যদি মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম কেউ থাকতেন, তাহলে তো গঠনতন্ত্র অনুসারে মুহতামিমের অবর্তমানে তিনিই দায়িত্ব পালন করতেন। এখনো নায়েবে মুহতামিম হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে হযরত মাওলানা হাফিজ আসআদ সাহেবকে মুয়িনে মুহতামিম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মুয়িনে মুহতামিম মানে তিনি মুহতামিমের কাজে সহায়তা করবেন। আমি ব্রিটেনে আসার কালে মাদরাসার মজলিসে আমেলার সিদ্ধান্তে জামেয়ার বর্তমান শায়খুল হাদিস সদরুল মুদাররিস হযরত মাওলানা মুহিববুল হক দামাত বারাকাতুহুমকে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আল আহরার: দরগা মাদরাসায় তো অনেক ধনীদের ছেলে পড়াশোনা করে। তারা মাদরাসার ফ্রি বোর্ডিংয়ের সুবিধা গ্রহণ এবং বিনামূল্যে পড়াশোনা করছে। প্রশ্ন হলো, ফ্রি বোর্ডিংয়ের ফান্ড তো আসে শুধু গরীব-এতিম ছাত্রদের জন্যে। পয়সাওয়ালাদের সন্তানরা এখান থেকে সুবিধা নেবে কেন?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: কোন ছেলের বাবার সম্পদ থাকলেই ছেলেকে ধনী বলা যায় না, ছেলে শরীয়তের ভাষায় গরীব। তবে হ্যাঁ, ছেলে নাবালেগ হলে তাকে ধনী বলা যাবে। আর ছেলে যদি বালেগ হয় এবং তার নিজস্ব কোন সম্পদ না থাকে, তাহলে বাবার সম্পদের কারণে তাকে ধনী বলা যাবে না। এইজন্যে তার জন্য যাকাত, সদকা, ফিতরা ইত্যাদি গ্রহণ করা জায়েয আছে। সুতরাং ছাত্র ভর্তির সময় কে ধনীর ছেলে, কে গরীবের ছেলে এই বিশ্লেষণে আমরা যাই না।

আল আহরার: আপনার মাদরাসায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অথচ ফেসবুক ও ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটগুলোতে আপনার মাদরাসার ছাত্রদের খুব সরব থাকতে দেখা যায়। যেহেতু মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ, তাই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে আপনারা কি ছাত্রদের বিশেষ কোন সুবিধা দেন?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: মাদরাসার ক্লাসরুম ও আবাসিক হলে মোবাইল ব্যবহার আমরা কঠোরভাবে নিষেধ করি। বাইরে যদি কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। বাকি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে ছাত্রদের মাদরাসার পক্ষ থেকে কোন ডিরেকশন বা উদ্বুদ্ধ করা হয় না। এটা হয়তো তারা ব্যক্তিগতভাবেই করে।

আল আহরার: বর্তমানে জ্ঞান ও গবেষণার একটি বড় মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। আপনারা সেখানে কোন কাজ করছেন?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: ইন্টারনেটে কাজ আমরা এখনো শুরু করি নাই। তবে খুব শীঘ্রই কাজ করার পরিকল্পনা আমাদের অবশ্যই আছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়াগুলো যদি ইন্টারনেটে চলে আসে, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবেন। ইন্টারনেটে কাজ করা বর্তমান সময়ের দাবি। যেভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভ্রান্তিকর কথা প্রচার হচ্ছে এবং মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য অনেক ওয়েবসাইটও তৈরি হয়েছে। সুতরাং হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলা তো সেদিকেই করতে হয়।

আল আহরার: অনেকে জানেন না, আপনি লেখালেখিও করেন। আপনার লিখিত বুখারি শরিফের ২৮ নম্বর পারার বঙ্গানুবাদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছিলো। আপনার লেখকজীবনের শুরু কবে থেকে? কীভাবে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: আমার লেখালেখির শুরু মূলত উর্দু ভাষায়। নফহাতুল আরবের একটি উর্দু ব্যাখ্যা লিখেছিলাম। কিন্তু এটি ছাপা হয়নি, ছাপানোর প্রয়োজনবোধও করিনি। তাছাড়া বুখারি শরিফের ২৮ নম্বর পারার বঙ্গানুবাদ প্রকাশের আগেও আমার একটি বই প্রকাশিত হয়েছিলো-যার নাম 'হায়াতে ঈসা' (আ.)। কাদিয়ানীরা ঈসা (আ.) মৃত্যুবরণ করেছেন বলে যে দাবি করে তার জবাব বইটিতে দেওয়া হয়েছে। তারপর 'সত্যের আলোর মুখোশ উন্মোচন' নামে একটি বই লিখেছিলাম। মওদুদী সাহেবের পক্ষাবলম্বন করে লেখা 'সত্যের আলো' বইটির জবাবে ঐ বইটি লিখেছিলাম। 'সত্যের আলো' বইটি লিখেছিলেন কুদরত উল্লাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা বশির সাহেব। তাছাড়া আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালিম বাংলাদেশের আমি রচনা ও প্রকাশনার সম্পাদক ছিলাম। এই সময় কিছু বই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে আমি প্রণয়ন করে দিয়েছি। 'সাধারণ মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ নয় কেন?' নামের ৪৮ পৃষ্ঠার একটি বই কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে। এটি মূলত আমার একটি দীর্ঘ ফতোয়ার সংকলন, যা আমাদের মাদরাসার মুখপত্র আল কাসিমে চার সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ছাত্রদের নিয়ে লেখা বাংলা ভাষায় 'আদাবুল মুতাআল্লিমিন' নামে একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া ছোটখাটো আরও কিছু লেখা আছে। সবকিছুর উল্লেখ তো এখানে প্রয়োজনবোধ করছি না। বর্তমানে বাংলাদেশে আহলে হাদিসের অপতৎপরতা খুব বেড়েছে। আহলে হাদিসের ইতিকথা ও তারা যেসব বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তার জবাব দিতে কাজ করছি। ইনাশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই তা বই আকারে প্রকাশিত হবে।

আল আহরার: আল কাসিম পত্রিকার প্রকাশনা বারবার বন্ধ হচ্ছে কেনো? ২০১৩ সালে পত্রিকাটি নতুন করে প্রকাশনা শুরু করে কয়েকটি সংখ্যা বের করেই এর প্রকাশনা আবারও মুখ থুবড়ে পড়ে। এমনটি ঘটছে কেনো?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: আল ক্বাসিমের প্রকাশনা বন্ধ হয়েছে, বিষয়টি ঠিক নয়। এখন আপাতত আমরা রেজিষ্ট্রেশনের জন্য পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ রেখেছি। চারটি সংখ্যা বের হওয়ার পর অনেকেই বলছেন রেজিষ্ট্রেশনবিহীন অনেকগুলো সংখ্যা বের করে ফেললে পত্রিকাটি আইনী জটিলতায় পড়তে পারে। এজন্য আপাতত একটু বন্ধ আছে রেজিষ্ট্রেশন যদি হয়ে যায় তাহলে পত্রিকার প্রকাশনাও আবার শুরু হয়ে যাবে।

আল আহরার: দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে ইলম চর্চার সঙ্গে রাজনৈতিক আদর্শের যে সংযোগ ছিলো, বর্তমানের মাদরাসাগুলোতে তা কতটুকু আছে?

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ ও লক্ষ্যের মধ্যে ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন বা জিহাদও অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনে তো তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিলো। কিন্তু ছাত্রজীবনে দেওবন্দের ছাত্ররা পড়াশোনা ছাড়া অন্য কোন ব্যস্ততায় জড়িত হতেন না। প্রয়োজনে কোন কোন সময় হয়তো মাঠে বের হতেন। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় তারা ছাত্রজীবনে পড়ালেখা ছাড়া অন্য কাজে ব্যস্ত হতেন না। ছাত্রজীবন শেষ করে যখন তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করতেন তখন অনেকে রাজনীতিতেও যোগ দিয়েছেন। সেদিক বিবেচনায় আমি মনে করি ছাত্রজীবনে কওমি মাদরাসার ছাত্রদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া ঠিক হবে না। তবে আমাদের বাংলাদেশের অনেক মাদরাসায় ছাত্রদের রাজনীতিতে জড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি এটাকে ছাত্রজীবনের পরিপন্থী কাজ বলে মনে করি। আমাদের জামেয়ার ছাত্ররা যাতে শিক্ষাদীক্ষা ছাড়া অন্য কোন কাজে জড়িত না হতে পারে, সে চেষ্টা আমরা সবসময় করি। আমাদের আকাবির আসলাফের আদর্শ লক্ষ্য করলে দেখবো, তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর রাজনীতিতে জড়াতেন। এখানে রাজনীতি মানে ইসলামের বিরুদ্ধে যখন যে হামলা আসে তার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিতেন। এদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের কিছু কিছু মাদরাসা এখনো রাজনীতির ক্ষেত্রে দারুল উলুম দেওবন্দের এই নীতির উপর আছে। তাছাড়া কওমি মাদরাসায় রাজনীতি প্রবেশ করায় ছাত্র উস্তাদদের সম্পর্ক এখন ভেঙ্গে পড়ছে। ছাত্ররা উস্তাদদের যেভাবে ভক্তি করা- শ্রদ্ধা করার কথা, অনেক ক্ষেত্রেই তা অনুপস্থিত দেখা যায়। এছাড়া ছাত্ররা রাজনীতিতে প্রবেশ করার কারণে তাদের চেহারা সুরত ঠিক কওমি মাদরাসার ছাত্রদের মতো থাকছে না। অনেকে যুক্তি তর্কের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিকে সমর্থন করেন। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাকে সমর্থন করি না। আমি যতটুকু দেখেছি, উন্নতবিশ্বে ছাত্ররা কিন্তু স্বদেশীয় রাজনীতির সাথে জড়িত হয় না। আমাদের দেশে তো আগে ছাত্ররাজনীতি কলেজ-ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রিক ছিলো; এখন তা হাইস্কুল লেভেলেও চলে এসেছে। আমার এক কথা হলো, ছাত্রজীবনে ছাত্রদের কাজই হলো পড়াশোনা করা, অন্য কোন ধান্ধা নয়। 

আল আহরার: লন্ডন থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা 'আল আহরার' নিয়ে যদি কিছু বলেন। কারণ এখানে যারা কাজ করছেন, তাদের বেশিরভাগ আপনার মাদরাসা থেকে পড়াশোনা করে বেরিয়ে এসেছেন।

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া: লেখালেখি ও পত্রিকা প্রকাশ করা বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বর্তমানে যদিও ইন্টারনেটের অনেক প্রসার ঘটেছে তবুও প্রিন্ট মিডিয়ার গুরুত্ব কিন্তু এখনো একটুও কমেনি। সেই বিবেচনায় সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক পত্রিকার গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে আপনারা ধর্মীয় পত্রিকা প্রকাশের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তাকে আমি স্বাগত জানাই। আল আহরার পত্রিকার সাথে যারা যুক্ত আছেন তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই পত্রিকার বিষয়বস্তুগুলো আমার খুব নজর কেড়েছে। আশা করছি, আল আহরার পাঠকদের মন জয় করতে সমর্থ হবে। আল্লাহর কাছে দু'আ করি, এই পত্রিকার যেন অনেক প্রচার-প্রসার ঘটে।

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলাও সেদিকে করতে হয়

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

শায়খে বাঘা রহ.’এর নামে পাকিস্তানে মসজিদ নির্মাণ করছে সিম্পল রিজন চ্যারিটি

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

কুইন মেরী ইউনিভার্সিটির গবেষণা ‘জেনোসাইড ইন মায়ানমার’

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

গ্রন্থ পর্যালোচনা: দ্যা রুম হোয়ার ইট হ্যাপেন্ড

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

গ্রন্থ পর্যালোচনা: ইবনে খালদুনের দ্য মুকাদ্দিমা

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জে শীতকালীন ফুড এইড কার্যক্রম সম্পন্ন

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

সিলেটে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যেগে ফ্রি সুন্নাতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

ইস্তাম্বুলে হালাল ফুড এক্সপোতে দ্য এসোসিয়েশন অব হালাল রিটেইলারস ইউকের অংশগ্রহণ

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

লন্ডনে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে 'সেবার মাধ্যমে দাওয়াহ' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

সিম্পল রিজনের সহযোগীতায় বগুড়ায় দাওয়াহ হালাকাহ অনুষ্ঠিত

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

সিলেটে নববী দাওয়াহ : পদ্ধতি ও শিক্ষা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

নোয়াখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সিম্পল রিজনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

লক্ষীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সিম্পল রিজন চ্যারিটির ত্রাণ বিতরণ

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

কুরবানি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিধান। মুফতি শরীফ মোহাম্মদ সাঈদ

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

লন্ডনে সিম্পল রিজনের অফিস পরিদর্শন করলেন মুফতি সাইফুল ইসলাম

the global affairs google play logo the global affairs apple logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ হোসাইন আহমদ

info@theglobalaffairs.info