ধর্ষণ মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গর্হিত অপরাধ সমূহের একটি। তবুও কতিপয় দুশ্চরিত্র মানুষের কারণে পৃথিবীর বুকে এই ঘৃণ্য অপকর্ম সংঘঠিত হয়। সামাজিক শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন পড়ে সঠিক অপরাধী নির্ণয় ও উপযুক্ত বিচারের। ন্যায় বিচারের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠ বিচার বিভাগীয় তদন্তের। তদন্তের স্বার্থে প্রথমেই ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা হয়। গ্লোবাল এফেয়ার্সের আজকের পর্বে আমরা জানবো ধর্ষণের আলামত যেভাবে পরীক্ষা করা হয়।
যদি কোনো ব্যক্তি ধর্ষিত হয়, আইন অনুযায়ী তাকে প্রথমে ওই এলাকার থানাকে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ কেইস বা করতে জিডি হয়। এরপর থানা থেকে একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর ভিকটিমকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে আসে। থানার মাধ্যমে প্রোপার রিকুজিশন নিয়ে ফরেনসিক বিভাগে আসতে হয়। সেইসাথে ভিকটিমের ছবি ও স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার রয়েছে। সেখানেও পরীক্ষা হয়ে থাকে। এছাড়া ওয়ান স্টপ ক্রাইসিসসেন্টারে ভিকটিমকে চিকিৎসা দেয়া হয়। যেমন- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা অন্যান্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকরা ভিকটিমকে তা দিয়ে থাকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার জান্নাতুন নাইমের একান্ত সাক্ষাৎকার থেকে এ বিষয়ে সবিস্তারে জানা যায়।
তিনি বলেন, ভিকটিম যে ধর্ষিত হয়েছে সেই আলামত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে থাকে। প্রয়োজন সাপেক্ষে ডিএনএ টেস্ট করা হয়। যদি ভিকটিমের সাথে কোনো দৈহিক মিলন হয়ে থাকে সেটা পরীক্ষা করবার জন্য ভিকটিমের যৌনাঙ্গ থেকে সোয়াপ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। যৌনাঙ্গের ভিতর কোনো শুক্রাণু আছে কিনা এ পরীক্ষাটি করেন ফরেন্সিক স্পেশালিস্ট। পরে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে নমুনা পাঠানো হয়। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস থেকে নমুনা নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের ভিতরে যে ডিএনএ ল্যাব আছে, সেখানে পাঠানো হয়। এছাড়া ফরেনসিক বিভাগে যে কেইস আসে সেগুলোর নমুনা মালিবাগে সিআইডির অধীনেও পাঠানো হয়।
এছাড়া বয়স নির্ধারণ করাবার জন্য ছয়টা হাড়ের এক্সরে করতে রেডিওলোজি বিভাগে পাঠাতে হয়। বয়সের সাথে ধর্ষণের একটা সম্পর্ক আছে। এরপর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পাঠানো হয় হাই ভেজিনাল সোয়াপ আছে কিনা তা দেখার জন্য। সব রিপোর্ট আসার পর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়। এই রিপোর্টগুলো আসতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ দিন ও সর্বোচ্চ এক মাস সময় লেগে যায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ধর্ষণ কেইসের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করতে কোনো ধরনের খরচ নেয়ার বিধান নেই।
বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক এই সুবিধা পাবেন। যেদিন ঘটনা ঘটে সেদিন থানায় গেলে থানা ভিকটিমকে সেফ কাস্টডিতে রাখে। কেউ যদি ধর্ষণের শিকার হয়, সাধারণত তিন দিনের মধ্যে এলে আলামত পেতে সুবিধা হয়।
যৌনাঙ্গের ভিতর শুক্রাণুটা পাওয়া যায়। এছাড়া ভিকটিমের কাপড়ও আলামত হিসেবে রাখা হয়। কারণ ধর্ষণ হওয়ার সময় কাপড়ে যদি কোনো বীর্য লেগে থাকে তাহলে ওই আলামত পাওয়া গেলে সুবিধা হয়।
আগে টু-ফিঙ্গার বলে একটা পরীক্ষা হতো। হাইকোর্ট থেকে আইন করে সেটা বন্ধ করে দিয়েছে। আগে এই পরীক্ষা পুরুষ মহিলা সব ডাক্তারই করতেন। ২/৩ বছর যাবত শুধু মহিলা ডাক্তাররা পরীক্ষা করছেন।
যদিও এই পরীক্ষাটা খুব জরুরি। তথাপি ভিকটিমের মানহানির কথা চিন্তা করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ ভিকটিম তো এমনিতেই ধর্ষণের শিকার, তারপর ডাক্তারেরা আবার যৌনাঙ্গের ভিতর পরীক্ষা করে। এই জন্য করে যে যৌনাঙ্গের ভিতর একটা পুরুষাঙ্গ ঢোকার মতো ততটা স্পেস আছে কিনা।
ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তার আছে ছয়জন এবং ফরেনসিক বিভাগে তিনজন । আর সহকারি আছে দুজন। এখন সবই মহিলা ডাক্তার। বর্তমানে লকডাউন ও করোনার সময় ভিকটিম কম আসছে। তারপরও মাসে আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ জন ভিকটিম আসে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩৮ বছর বয়সী নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকে। তবে ইদানিং খুব ছোট শিশুরাও এর শিকার হচ্ছে, যেমন ৩ থেকে ৪ বছরের বাচ্চারা। ছোট বাচ্চাদের পরীক্ষা করার সময় অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যেহেতু বাচ্চাটা ধর্ষণের শিকার হয়েছে তখন বাচ্চাটা অনেক ভয় পায়। বাচ্চারা তখন আর কাউকে বিশ্বাস করতে চায় না। অনেক সময় বাচ্চারা মানসিকভাবে ভেঙে পরে অসুস্থ হয়ে যায়। বাচ্চাদের অনেক বুঝিয়ে তথ্য বের করতে হয়। বর্তমানে অনেক পুরুষ ধর্ষণের কেইসও আসছে।
প্রতিদিন ১০/১২ জন ভিকটিম আসে। যে সংখ্যক ভিকটিম ফরেনসিকে আসে, সেই মোতাবেক ডাক্তার নেই। তাই হিমশিম খেতে হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডাক্তার জান্নাতুন নাইম আরো বলেন, ৩৬৫ দিন ফরেনসিক বিভাগটি ভিকটিমদের জন্য খোলা থাকে এবং আমাদের কাজ করতে হয়। এই বিভাগে আরো ডাক্তারের প্রয়োজন।
প্রতিনিয়ত বস্তুগত উৎকর্ষ, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষার সম্প্রসারণ হলেও নৈতিক স্খলন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। ক্রমেই ঘৃণ্য অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত হলেও কেন নৈতিক ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটছে না এ প্রশ্ন অমিমাংসিত থেকে যাচ্ছে। আর ক্রমেই বেড়ে চলেছে ধর্ষণমত ঘৃণ্য অপরাধসমূহ।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা
হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলাও সেদিকে করতে হয়
শায়খে বাঘা রহ.’এর নামে পাকিস্তানে মসজিদ নির্মাণ করছে সিম্পল রিজন চ্যারিটি
কুইন মেরী ইউনিভার্সিটির গবেষণা ‘জেনোসাইড ইন মায়ানমার’
গ্রন্থ পর্যালোচনা: দ্যা রুম হোয়ার ইট হ্যাপেন্ড
গ্রন্থ পর্যালোচনা: ইবনে খালদুনের দ্য মুকাদ্দিমা
সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জে শীতকালীন ফুড এইড কার্যক্রম সম্পন্ন
সিলেটে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যেগে ফ্রি সুন্নাতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ইস্তাম্বুলে হালাল ফুড এক্সপোতে দ্য এসোসিয়েশন অব হালাল রিটেইলারস ইউকের অংশগ্রহণ
লন্ডনে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে 'সেবার মাধ্যমে দাওয়াহ' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সিম্পল রিজনের সহযোগীতায় বগুড়ায় দাওয়াহ হালাকাহ অনুষ্ঠিত
সিলেটে নববী দাওয়াহ : পদ্ধতি ও শিক্ষা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সিম্পল রিজনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান
লক্ষীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সিম্পল রিজন চ্যারিটির ত্রাণ বিতরণ
কুরবানি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিধান। মুফতি শরীফ মোহাম্মদ সাঈদ
লন্ডনে সিম্পল রিজনের অফিস পরিদর্শন করলেন মুফতি সাইফুল ইসলাম
হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলাও সেদিকে করতে হয়
শায়খে বাঘা রহ.’এর নামে পাকিস্তানে মসজিদ নির্মাণ করছে সিম্পল রিজন চ্যারিটি
কুইন মেরী ইউনিভার্সিটির গবেষণা ‘জেনোসাইড ইন মায়ানমার’
গ্রন্থ পর্যালোচনা: দ্যা রুম হোয়ার ইট হ্যাপেন্ড
গ্রন্থ পর্যালোচনা: ইবনে খালদুনের দ্য মুকাদ্দিমা
সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জে শীতকালীন ফুড এইড কার্যক্রম সম্পন্ন
সিলেটে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যেগে ফ্রি সুন্নাতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ইস্তাম্বুলে হালাল ফুড এক্সপোতে দ্য এসোসিয়েশন অব হালাল রিটেইলারস ইউকের অংশগ্রহণ
লন্ডনে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে 'সেবার মাধ্যমে দাওয়াহ' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সিম্পল রিজনের সহযোগীতায় বগুড়ায় দাওয়াহ হালাকাহ অনুষ্ঠিত
সিলেটে নববী দাওয়াহ : পদ্ধতি ও শিক্ষা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সিম্পল রিজনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান
লক্ষীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সিম্পল রিজন চ্যারিটির ত্রাণ বিতরণ
কুরবানি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিধান। মুফতি শরীফ মোহাম্মদ সাঈদ
লন্ডনে সিম্পল রিজনের অফিস পরিদর্শন করলেন মুফতি সাইফুল ইসলাম